
নতুনভাবে সংযোজিত ধারা ২১খ মূলত প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা (Pre-case Mediation) বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান, যার মাধ্যমে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের মামলায় সরাসরি আদালতে মামলা দায়ের করার সুযোগ আর থাকছে না। এখন থেকে এসব ক্ষেত্রে প্রথমেই আইনগত সহায়তা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে হবে, এবং শুধুমাত্র মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে মামলা দায়ের করা যাবে।
এই ধারার অধীনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু মামলার ক্ষেত্রে আদালতে যাওয়ার আগে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার চেষ্টা করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় যদি সমাধান না হয়, তবে তবেই মামলা দায়েরের সুযোগ থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মধ্যস্থতা চলাকালীন সময়টি তামাদি গণনার বাইরে থাকবে, অর্থাৎ এই সময় গণনায় ধরা হবে না।
এই ধারা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোকে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে তফসিলের মাধ্যমে। সংশোধিত আইনের তফসিলে যেসব আইন ও ধারার উল্লেখ রয়েছে, সেগুলোর অধীনে প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু আইন ও ধারা নিম্নরূপ:
১. পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৫ – পারিবারিক বিরোধ (যেমন: বিবাহ বিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।)
২. Negotiable Instruments Act, 1881 এর ধারা ১৩৮ – চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত মামলা (যেখানে চেকের পরিমাণ ৫ লক্ষ টাকার কম)
৩. যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ এর ধারা ৩ ও ৪
৪. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ১১(গ) – নির্যাতনের অভিযোগ (যেখানে আপসযোগ্যতা আছে)
৫. পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ এর ধারা ৮- পিতামাতার ভরণপোষণ সম্পর্কিত বিরোধ।
৬. বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১
৭. State Acquisition & Tenancy Act, 1950 এর ধারা ৯৬
৮. Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 এর ধারা ২৪
৯. সহকারী জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বণ্টন সম্পর্কিত বিরোধ।
এই সকল আইন ও ধারার অধীন মামলা দায়েরের আগে অবশ্যই লিগ্যাল এইড কর্তৃপক্ষের মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হবে। মধ্যস্থতায় সমাধান না এলে, তারপর কেবল আদালতে যাওয়া যাবে। অর্থাৎ মামলা দায়ের করা যাবে।
ধারা ২১খ এবং তফসিল একে অপরের পরিপূরক। ধারা ২১খ নির্দেশনা দিয়েছে যে, কোন কোন পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক হবে, আর তফসিল সেই নির্দিষ্ট আইন ও ধারাগুলোর তালিকা দিয়েছে যেখানে এই বাধ্যবাধকতা কার্যকর হবে। ফলে, এই বিধান আদালতের ওপর মামলার চাপ হ্রাস করবে, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির সংস্কৃতি গড়ে তুলবে, এবং বিচার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, সহজ ও মানবিক করে তুলবে।
সার্বিকভাবে, এই নতুন আইনি বিধানটি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (ADR) একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।