1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
হাইকোর্টের রায় উপেক্ষা: মোহাম্মদপুরে পুনর্বাসনের নামে ২৮৮ পরিবারের সাথে চরম প্রতারণার অভিযোগ - dailyainerkantho
১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| শরৎকাল| বুধবার| সন্ধ্যা ৬:২৬|
শিরোনামঃ
হাইকোর্টের রায় উপেক্ষা: মোহাম্মদপুরে পুনর্বাসনের নামে ২৮৮ পরিবারের সাথে চরম প্রতারণার অভিযোগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইবি ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নবনির্মিত কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজ ভবনের উদ্বোধন ইবির উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হল স্পোর্টস ক্লাবের নেতৃত্বে ফারহানা-আজমেরী শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন মুসা মিয়া জমকালো আয়োজনে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত পঞ্চগড়ে নবম শ্রেণি শিক্ষার্থী ধর্ষন পর মৃত্যু এঘটনায় গ্রেপ্তার ২ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ফয়সল আমিনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ আমড়া বিক্রি করে জীবিকা ও পড়ার খরচ জুগিয়ে নজর কাড়ছে ধর্মপাশার দুই শিশু সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনী বিলে স্বাক্ষর না করতে রাষ্ট্রপতির প্রতি জমিয়তের আহ্বান

হাইকোর্টের রায় উপেক্ষা: মোহাম্মদপুরে পুনর্বাসনের নামে ২৮৮ পরিবারের সাথে চরম প্রতারণার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬,
  • 8 Time View

 

হাইকোর্টের রায় উপেক্ষা: মোহাম্মদপুরে পুনর্বাসনের নামে ২৮৮ পরিবারের সাথে চরম প্রতারণার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ ছয় দশক আগে পুনর্বাসিত হওয়া ২৮৮টি পরিবার আজ নিজেদের স্থায়ী ঠিকানা হারিয়ে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। ঢাকার মোহাম্মদপুর ডি-টাইপ কলোনির এই বাসিন্দাদের বহুতল ভবনে পুনর্বাসনের সরকারি প্রতিশ্রুতি এখন রূপ নিয়েছে প্রশাসনিক হয়রানি ও চরম প্রতারণায়। মহামান্য হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করে, মূল নথি গায়েব এবং নানামুখী অনিয়মের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের উচ্ছেদ করে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের নামে—এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর।
ছয় দশকের ঠিকানা ও নতুন প্রকল্পের ফাঁদ
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৬০ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এবং একটি জার্মান এনজিওর সহায়তায় মোহাম্মদপুর ডি-টাইপ কলোনির ৮টি ভবনে ২৮৮টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছিল। দীর্ঘ ৫ যুগেরও বেশি সময় ধরে মাত্র ২০০ বর্গফুটের ক্ষুদ্র ফ্ল্যাটগুলোই ছিল এই মানুষগুলোর স্থায়ী ঠিকানা, যা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্টের ঠিকানা হিসেবেও স্বীকৃত।
২০১৯ সালে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (জাগৃক) এই জমিতে ‘কনকচাঁপা’ ও ‘দোলনচাঁপা’ নামে ৪৩০টি নতুন ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়। সে সময় জাগৃকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল—নতুন বহুতল ভবনে পূর্বে বসবাসকারী এই ২৮৮টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বাসন করা হবে। তাদের চাহিদা মেটানোর পরই কেবল অবশিষ্ট ফ্ল্যাটগুলো অন্যদের কাছে বিক্রি করা হবে।
হাইকোর্টের রায় উপেক্ষা ও নথিপত্র গায়েবের অভিযোগ
কলোনির বাসিন্দারা জানান, সময়ের সাথে সাথে কর্তৃপক্ষের সেই আশ্বাস রূপ নিয়েছে বড় ধরনের প্রতারণায়। মহামান্য হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং ৭৬৪১/২০২১ ও ১৮৩২৮/২০২৫ এর স্পষ্ট রায় থাকা সত্ত্বেও বারবার শর্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। কলোনির বাসিন্দারা বকেয়া ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করে নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জামানতসহ প্রতিটি পরিবার ইতোমধ্যে ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা খরচ করেছে।
তা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে ২৫৭টি আবেদনের মধ্যে ১২৭টি আবেদনকেই অন্যায়ভাবে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, প্রকৃত বাসিন্দাদের দাবি ধামাচাপা দিতে মূল ২৮৮টি নথির মধ্যে ১১৫টি নথিই অফিস থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।
শর্তের বেড়াজাল ও কর্মকর্তাদের ‘ফ্ল্যাট লুটপাট’
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাবেক সরকারের আমলে সুচতুর কর্মকর্তারা রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও নিজেদের লোকদের ফ্ল্যাট পাইয়ে দিতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ওপর অন্যায্য শর্ত চাপিয়ে দিয়েছেন। নতুন আবেদনকারীদের সমান দর ধরে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ফ্ল্যাটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বর্গফুট প্রতি ৬,০৫৫ টাকা। শুধু তাই নয়, পূর্বে প্রতিশ্রুত কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা ৮ বছর থেকে কমিয়ে মাত্র ৪ বছর করা হয়েছে, যা এই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য অসম্ভব।
অন্যদিকে, অন্যদের সন্তুষ্ট করতে সংরক্ষিত কোটায় ৫২টি, গ্রেডেশনে ৫৬টি এবং বিতর্কিত লটারির মাধ্যমে ৫৬টিসহ মোট ১৬৫টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জাগৃকের তৎকালীন চেয়ারম্যান নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজের নামে ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়েছেন। এছাড়া চারজন কর্মকর্তা কোনো লটারি ছাড়াই একাধিক ফ্ল্যাট ও গ্যারেজ দখলে নিয়েছেন। এমনকি পুরোনো ভবন ভাঙার সময় আনুমানিক ২ কোটি টাকার মালামাল ও সরঞ্জাম আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
তদন্ত কমিটি ও ভুক্তভোগীদের দাবি
এই চরম অন্যায় ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে গত আগস্টের শেষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মোহাম্মদপুরে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের নির্দেশে ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানান, তারা কোনো দয়া চান না, বরং তাদের আইনগত ও মানবিক অধিকার চান। তারা প্রশাসনের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আইনের শাসনের ওপর আস্থা রেখে ৪ দফা দাবি জানিয়েছেন:
১. মহামান্য হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ মেনে পূর্বে বসবাসকারী ২৮৮টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সকলকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিতে হবে।
২. নথি গায়েব ও তথাকথিত যাচাই-বাছাই কমিটির দুর্নীতির সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. ফ্ল্যাটের মূল্য পুনর্বিবেচনা করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়সঙ্গত শর্ত ও ৮ বছরের কিস্তি সুবিধা পুনর্বহাল করতে হবে।
৪. কলোনি উচ্ছেদের ফলে বাস্তুচ্যুত হওয়া পরিবারগুলোর স্থায়ী ঠিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
ছয় দশক ধরে যে মাটিতে একটি প্রজন্ম বড় হয়েছে, আজ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর দুর্নীতির করাল গ্রাসে তা হাতছাড়া হতে বসেছে। গণমাধ্যম ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপে ২৮৮টি পরিবারের এই দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটবে—এমনটাই প্রত্যাশা ঢাকা মহানগরীর এই প্রাচীন বাসিন্দাদের।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 dailyainerkantho কারিগরি সহযোগিতায়ঃ BDITWork.com