1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
ক্ষুদ্রঋণকে ব্যাংকিং কাঠামোয় নিলে প্রতিষ্ঠান ও প্রান্তিক মানুষ ঝুঁকিতে পড়বে - dailyainerkantho
৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ| বসন্তকাল| বৃহস্পতিবার| বিকাল ৪:০৫|
শিরোনামঃ
নবায়নযোগ্য জ্বালানীতে জরুরী বিনিয়োগ বাড়িয়ে জ্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন পঞ্চগড়ের আটোয়ারী ইজিবাইকের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু উস্কানীমূলক পোস্ট ঘিরে উত্তেজনার শঙ্কা, অভিযুক্ত চিকিৎসক ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ! বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের তাৎপর্যপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণদের আগে নিয়োগ দিন ইন্দ্রমোহন রাজবংশী স্মারক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান ২০২৬ অনুষ্ঠিত মাধবপুরে জমি বিরোধে সালিশ ভেঙে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল এক বৃদ্ধের দুই প্রতিমন্ত্রীর পদচারণায় মুখরিত নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষুদ্রঋণকে ব্যাংকিং কাঠামোয় নিলে প্রতিষ্ঠান ও প্রান্তিক মানুষ ঝুঁকিতে পড়বে আজ নন্দিত লেখক জহুর কবিরের জন্মদিন

ক্ষুদ্রঋণকে ব্যাংকিং কাঠামোয় নিলে প্রতিষ্ঠান ও প্রান্তিক মানুষ ঝুঁকিতে পড়বে

সাইফুল আলম সরকার
  • Update Time : মঙ্গলবার, এপ্রিল ৭, ২০২৬,
  • 33 Time View

 

ক্ষুদ্রঋণকে ব্যাংকিং কাঠামোয় নিলে প্রতিষ্ঠান ও প্রান্তিক মানুষ ঝুঁকিতে পড়বে

মো: সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা:   ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংকিং কাঠামোর আওতায় আনার নামে কোনো ধরনের কর্পোরেট আগ্রাসন মেনে নেওয়া হবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবিত ‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ–২০২৫’ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আড়ালে ক্ষুদ্রঋণ খাতকে ধ্বংস করার সুস্পষ্ট নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেন আজ ৭ এপ্রিল ২০২৬ইং ঢাকায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, দেশে বিদ্যমান ৬৭টি ব্যাংক পরিচালনায় যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংককেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়, সেখানে শত শত এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হলে তা কীভাবে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এখানে উল্ল্যেখ্য যে বর্তমান সরকার অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রনীত যে ১৬টি অধ্যাদেশকে অধিকতরও শক্তিশালী করার জন্য স্থগিত রেখেছে তার মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ–২০২৫’ ও রয়েছে।

তারা আরও বলেন, অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঝুঁকি সৃষ্টি না করে বরং সঞ্চয়ের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে, পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট-এর আওতায় সার্টিফিকেট মামলা দায়েরের সুযোগ প্রদান করতে হবে যাতে অর্থ আত্মসাৎ প্রতিরোধ করা যায়। ক্ষুদ্রঋণ খাতের তদারকির দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে না দিয়ে বরং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ), পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং এনজিও ব্যুরোর মতো বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং তাদের নিজস্ব কাঠামোর মধ্যেই তাদের কাজ করতে দিতে হবে।
আজ ৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার) ২০২৫ ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে কোস্ট ফাউন্ডেশন, ইক্যুইটিবিডি এবং বিডিসিএস্ও প্রসেস কর্তৃক  আয়োজিত “ক্ষুদ্রঋণকে ব্যাংকিং কাঠামোয় রূপান্তরের ঝুঁকি” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসকল দাবিসমূহ তুলে ধরেন। কোস্ট ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক ও ইক্যুইটিবিডি-এর প্রধান সঞ্চালক রেজাউল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে উক্ত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কোস্ট ফাউন্ডেশন এর ক্ষুদ্রঋন এর পরিচালক- সৈয়দ আমিনুল হক, ইকুইটিবিডির সমন্বয়কারি, ওমর ফারুক ভুইয়া, বিডিসিএসও-প্রসেস এর এম. এ. হাসান সহ অন্যানরা বক্তব্য রাখেন। সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিডিসিএসও প্রসেস-এর মোস্তফা কামাল আকন্দ।

রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো বা ব্যাংক ব্যালেন্স বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; প্রকৃত উন্নয়ন হলো মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা। তিনি বলেন, এনজিওগুলো স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের জন্য বিদেশ থেকে যে ফান্ড আনার সুযোগ পায় ব্যাংকগুলো কি সুযোগ পাবে? তাছাড়া যেখানে বাণিজ্যিক ব্যাংক গুলোর এনপিএল প্রায় ৩৫% সেখানে ক্ষুদ্রঋণ এনপিএল গড়ে ৮-৯% উপরে নয়, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে এমন নজির  বাংলাদেশে নেই। তাই ব্যাংক গুলোও এখন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ কে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করছে। ক্ষুদ্রঋণ সেক্টর লাখো মানুষের আত্মনির্ভরতা ও নারীর ক্ষমতায়ন জোরদার করেছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করেছে, আমরা এই  সেক্টরকে  কর্পোরেট আগ্রাসনের ঝুঁকিতে ফেলতে দিতে পারিনা।
সৈয়দ আমিনুল হক বলেন, “বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই ৬৭টি ব্যাংক রয়েছে, সেক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংকিং কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজন কেন—এটি এক বড় প্রশ্ন। ব্যাংকগুলো মূলত মুনাফা লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হয় এবং পরিচালনা পর্ষদের রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে থাকে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে। দেশে প্রায় ৭০০টির মতো এনজিও কার্যক্রম চালাচ্ছে, অথচ বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কারো সঙ্গে আলোচনা না করে, মতামত না নিয়ে মাত্র কয়েকটি বড় এনজিও ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের পরামর্শের ভিত্তিতে এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছে। এটি শুধু ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোরই নয়, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আমরা দাবি করছি, এই অধ্যাদেশ অবিলম্বে বাতিল করা হোক।

মোস্তফা কামাল আকন্দ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রস্তাবিত ‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ২০২৫’ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। প্রথমত, ক্ষুদ্রঋণের মূল লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক উন্নয়ন, যা ব্যাংকিং কাঠামোয় মুনাফা-চালিত হয়ে প্রান্তিক মানুষদের সেবার বাইরে ঠেলে দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকিং নিয়ম ও জটিলতা দ্রুত ও সহজলভ্য সেবাকে বাধাগ্রস্ত করবে। তৃতীয়ত, এনজিওদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার কাজ ব্যাংকিং মডেলে গুরুত্ব হারাবে, যা গ্রামীণ উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ওমর ফারুক ভুইয়া বলেন, গত তিন দশক ধরে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত বৈদেশিক তহবিল ছাড়াই স্বনির্ভরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। দেশের মোট জিডিপিতে এই খাতের অবদান প্রায় ১৭ শতাংশ। প্রতিদিন প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়, যার প্রায় ৪০ শতাংশই গ্রুপ সদস্যদের সঞ্চয় থেকে আসে। এ খাতে প্রায় ৫ লক্ষ কর্মী নিয়োজিত রয়েছে।তারা সতর্ক করে বলেন, এই বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ খাতকে গুটি কয়েক বড় এনজিও বা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয়া যাবেনা।
এম.এ. হাসান বলেন, এনজিওগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুধু ঋণ প্রদানে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলাসহ নানা সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ব্যাংকিং কাঠামোয় রূপান্তরিত হলে এসব মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগ গুরুত্ব হারাতে পারে, যা গ্রামীণ জনপদের সামগ্রিক উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 dailyainerkantho