1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
মনোহরগঞ্জে ডাকাতিয়া খালে পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসব - dailyainerkantho
৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| বর্ষাকাল| সোমবার| সন্ধ্যা ৭:২৪|
শিরোনামঃ
তালায় মালচিং পেপার ব্যবহার করে ২৮ কৃষকের অমৌসুমী তরমুজ চাষ: সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত সান্তাহারে বায়তুন নূর জামে মসজিদে চুরির চেষ্টা, থাই গ্লাসের ফ্রেম নিয়ে পালাল দুর্বৃত্তরা জামায়াত আমীরের সমর্থন ও ইনসাফ গার্ডের সভাপতির সাহসী বক্তব্য: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে নিজস্ব শক্তিশালী মিডিয়ার আহ্বান খান রায়হানের শহরের ড্রেনের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করলেন ঝিনাইদহ-২ আসনের এমপি আলী আজম বুটেক্সে প্রথম ট্রেজারার মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী পুলিশ কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কাউন্সিল বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে, অর্থ আত্মসাৎ, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জুলাই অভ্যুত্থানের একমাত্র মাস্টারমাইন্ড মহান আল্লাহ,ইনসাফ গার্ডের সভাপতি খান রায়হান রাজশাহীতে সাংবাদিক সম্রাটকে কুপিয়ে জখম, অবস্থা আশঙ্কাজনক

মনোহরগঞ্জে ডাকাতিয়া খালে পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসব

এস এম আনোয়ার
  • Update Time : সোমবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২৬,
  • 308 Time View

 

এস এম আনোয়ার
মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ডাকাতিয়া খাল ঘিরে আবারও ফিরে এলো গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার উৎসব। পলো হাতে শত শত মানুষের অংশগ্রহণে খালজুড়ে তৈরি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
সোমবার দুপুর প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার দিশাবন্দ, ঝলম ও হাটিরপাড় এলাকায় ডাকাতিয়া খালের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই মাছ ধরার উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই পলো, জাল, দড়িসহ মাছ শিকারের নানা উপকরণ নিয়ে দলবদ্ধভাবে খালের পাড়ে জড়ো হতে থাকেন উৎসুক মানুষজন।
দলে দলে পানিতে নেমে পলো দিয়ে একের পর এক ঝাঁপ, আর সেই সঙ্গে আনন্দের হৈ-হুল্লোড়—সব মিলিয়ে দৃশ্যটি ছিল সত্যিই চোখে পড়ার মতো। ছন্দের তালে তালে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া মাছ শিকারীদের পদচারণায় যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল হারিয়ে যাওয়া গ্রামবাংলার সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য।

মাছ শিকারীদের অনেকেই বোয়াল, গজার, শোলসহ নানা প্রজাতির দেশি মাছ ধরতে সক্ষম হন। কেউ কেউ একাধিক মাছ পেলেও অনেকেই ফিরেছেন খালি হাতে। তবে মাছ পাওয়া না পাওয়ার চেয়ে উৎসবে অংশগ্রহণ করাটাই ছিল সবার কাছে বড় আনন্দ। একজন মাছ ধরতে পারলেই চারপাশে উল্লাস আর আনন্দধ্বনিতে সবাই সেই সুখ ভাগ করে নেন।

নাছির উদ্দীন নামে একজন মাছ শিকারী বলেন,
মাছ ধরা শুধু মাছ পাওয়ার জন্য না ভাই, এটা আমাদের আনন্দ, আমাদের ঐতিহ্য। ছোটবেলা থেকে বাবার হাত ধরে এই ডাকাতিয়া খালে নামছি পলো নিয়ে। আজ মাছ পাই বা না পাই, তাতে কিছু যায় আসে না।

আবুল কাশেম নামের আরো একজন মাছ শিকারী বলেন,শত মানুষের সঙ্গে একসাথে পানিতে নেমে হাসি-ঠাট্টা, হৈ-হুল্লোড়—এই আনন্দটাই আসল। এখন খালে আগের মতো মাছ নেই, তবু এই উৎসব আমাদের মনটাকে ভরিয়ে দেয়। যতদিন পারি, এই ঐতিহ্য আমরা ধরে রাখব।

পলো ছাড়াও ফার জাল, ছিটকি জাল, ঝাঁকি জাল, পেলুনসহ বিভিন্ন ধরনের জাল ব্যবহার করে মাছ ধরতে দেখা যায় অংশগ্রহণকারীদের। একসময় ডাকাতিয়া খালে বছরজুড়েই প্রচুর দেশীয় সুস্বাদু মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু কালের বিবর্তনে খালটি সংকুচিত হওয়ায় বর্তমানে সেই প্রাচুর্য আর নেই। চলতি শীত মৌসুমে খালের বিভিন্ন অংশ শুকিয়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও হাঁটু কিংবা কোমরসমান পানিতেই এই মাছ ধরার উৎসবের রূপ নেয়।
এ বিষয়ে আরো কয়েকজন মৎস্য শিকারী জানান,
মাছ পাওয়া না পেলেও এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবে অংশ নেওয়াটাই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসিরুল ইসলাম বলেন, ডাকাতিয়া খাল থেকে পলো দিয়ে মাছ ধরা মনোহরগঞ্জ উপজেলার একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব। এতে দেশীয় মাছ ধরা পড়ে এবং মানুষের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আমি সাধুবাদ জানাই। এটি নিঃসন্দেহে একটি আনন্দের বিষয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 dailyainerkantho কারিগরি সহযোগিতায়ঃ BDITWork.com