
এস এম আনোয়ার
মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ৮নং খিলা ইউনিয়নের দিশাবন্দ গ্রামে একটি পুকুর থেকে জামাল হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয়রা পুকুরে লাশ ভাসতে দেখে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে তার ছেলে সাকিব হোসেনের সঙ্গে জামাল হোসেনের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাকিবের সঙ্গে মহিনের ছেলে সবুজ, তাজুল ইসলামের ছেলে বাবলু, সামছুল হকের ছেলে অপু, আব্দুস সাত্তারের ছেলে সিজন এবং আবদুল খালেকের ছেলে হারুন মিলে জামালকে মারধর করে।
খবর পেয়ে জামালের ছেলে আলাউদ্দিন বাবাকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।
জানা যায়, জামাল হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও তার ছেলে আলাউদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়। পরে রাতেই জামাল ছেলেকে দেখতে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
শনিবার দুপুরে স্থানীয় লোকজন,দিশাবন্দ গ্রামের একটি পুকুরে জামালের মরদেহ ভাসতে দেখেন। লাশ উদ্ধারের সময় তার মাথায় ব্যান্ডেজ এবং শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
জামালের ভাই অহিদুর রহমান বলেন, আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে তদন্ত করে অপরাধিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
মনোহরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানান,লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এলাকাবাসীর দাবি,সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধিকে খুঁজে বের করতে হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।