
অতীতের ক্ষমতার রূপ
হাজি সেলিম আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন একাধিকবার। বিশেষত ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি পুরান ঢাকার আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। তার পরিবারের সদস্যরাও রাজনীতি ও ব্যবসার মাধ্যমে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। স্থানীয়রা তাকে ‘পুরান ঢাকার ত্রাস’ বলতেন, কারণ তার অনুমতি ছাড়া এলাকায় কোনো বড় ব্যবসা, জমি লেনদেন বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চলত না বললেই চলে।
ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ভাষ্য অনুযায়ী, হাজি সেলিমের ক্যাডার বাহিনী ছিল পুরান ঢাকার নিয়ন্ত্রক শক্তি। মাদক ব্যবসা, অবৈধ টেন্ডারবাজি, দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তার বিরুদ্ধে বহুবার উঠেছিল, যদিও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সবকিছু ঢাকা পড়ে যেত।
পতনের শুরু!
কিন্তু সময়ের পালাবদলে ক্ষমতার পাল্লা একেবারে বদলে গেছে। শেখ হাসিনার পতনের পর আওয়ামী লীগের ভেতরকার বলয় ভেঙে পড়লে হাজি সেলিমও হয়ে পড়েন ক্ষমতাহীন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের একাধিক মামলা পুরোনো ফাইল থেকে আবার আলোচনায় আসে। ব্যবসায়িক দাপট যেমন কমে যায়, তেমনি রাজনৈতিক প্রভাবও ভেঙে পড়ে।
বর্তমান অবস্থা!
আজকের দিনে হাজি সেলিম প্রায় নিরব। একসময় যারা তার নাম শুনে ভয়ে কেঁপে উঠত, সেই মানুষরাই এখন প্রকাশ্যে তার সমালোচনা করছে। রাজনৈতিক মাঠে তার আর কোনো সক্রিয়তা নেই। পুরান ঢাকার সাধারণ মানুষ বলছেন, “যে মানুষ একসময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নিজের হাতে খেলাতেন, আজ তিনি নিজেই আইনের চোখ এড়িয়ে চলতে বাধ্য।”
এখন তার অবস্থান অনেকটাই নিঃসঙ্গ। পুরনো সহযোগীরা একে একে দূরে সরে গেছে, পরিবার-পরিজনও বেশিরভাগ সময় নীরব থাকেন। রাজনৈতিক ক্ষমতা হারিয়ে তিনি এখন শুধু অতীতের একটি নাম, একটি অধ্যায়ের স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।
হাজি সেলিমের কাহিনি একটি শিক্ষা – ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। ক্ষমতার অপব্যবহারকারী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, একদিন সময়ের কঠিন রায়ের মুখোমুখি হতে হয়।