1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
৩১ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও ৭ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার অভিযোগ: ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীর তোপ - dailyainerkantho
২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| শরৎকাল| রবিবার| বিকাল ৩:০৩|
শিরোনামঃ
৩১ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও ৭ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার অভিযোগ: ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীর তোপ প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহবার আলী কে তেতুলিয়ায় বিএনপি আলেম-ওলামাদলের সংবর্ধনা ইবিতে আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু ধর্মপাশার গাছতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে এডহক কমিটি গঠন ইবিতে আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পটুয়াখালীতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জেলা প্রতিনিধি সম্মেলন উপাচার্য বরাবর ইবি ছাত্রশিবিরের স্মারকলিপি, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারারকে ইবিতে সংবর্ধনা ধর্মপাশায় পাইকুরাটি- সেলবরষ ইউনিয়ন প্রবাসী উন্নয়ন সমিতির নগদ অর্থ বিতরণ রাজশাহীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির সমাবেশ

৩১ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও ৭ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার অভিযোগ: ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীর তোপ

মশিউর রহমান
  • Update Time : রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬,
  • 8 Time View

 

৩১ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও ৭ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার অভিযোগ: ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীর তোপ

​মশিউর রহমান রাজশাহী:
রাজশাহীর মোহনপুরে কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মার্কেটের দোকানঘর বরাদ্দ বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ, নৈশআঁধারে দোকান দখল-চুরি এবং বিচার চাইতে গিয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্রের হাতে হয়রানির বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী মোঃ নজরুল ইসলাম।
​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নজরুল ইসলাম (পিতা—মৃত আবুল হাসেম, গ্রাম—বেলনা, মোহনপুর) দাবি করেন, কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মার্কেটের একাধিক দোকানঘরের বিপরীতে তিনি চুক্তিপত্র ও স্ট্যাম্পের মাধ্যমে মোট ৩১ লাখ টাকা জামানত হিসেবে দেন। পরবর্তীতে ব্যবসায়িক মন্দার কারণে গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে জামানতের টাকা ফেরত চেয়ে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের কাছে লিখিত আবেদন জানান। তবে দীর্ঘদিন পার হলেও টাকা ফেরত না দিয়ে নানা চক্রান্ত শুরু করা হয়। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের মৌখিক নির্দেশে মার্কেটের অসমাপ্ত দোকানঘর ও মসজিদের দেয়াল নির্মাণে তিনি নিজ খরচে আরও ৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪২০ টাকা ব্যয় করলেও সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার একটি স্ট্যাম্প জোর পূর্বক কেড়ে নেয় শফিকুল ইসলামের গুন্ডা বাহিনী।

ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তিনি বাবুল নামে এক ব্যক্তির কাছে একটি দোকানঘর সাব-লেট দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও বাবুল যোগসাজশ করে জোরপূর্বক দোকানঘরটি দখলের চেষ্টা করেন এবং মালামাল বাইরে ফেলে তা সরিয়ে নেন। কয়েকদিন পরে রাতের আঁধারে দোকানে থাকা কয়েক লাখ টাকার মেশিনারি মালামাল চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া মার্কেটের অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে আন্ডারগ্রাউন্ড দোকানে পানি ঢুকে কয়েক বর্ষা মৌসুমে তাঁর প্রায় ১১ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়।
​তিনি আরও জানান, প্রধান শিক্ষকের জালিয়াতির বিরুদ্ধে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন। তবে প্রধান শিক্ষক পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার মৌখিক আশ্বাস দিলে তাঁর কথায় বিশ্বাস রেখে মামলা আর চালাননি, ফলে আদালত তা খারিজ করে দেয়। মামলা খারিজের পর পরই প্রধান শিক্ষক ওয়াদা ভঙ্গ করেন এবং উল্টো হয়রানি শুরু করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ন্যায্য বিচারের আশায় আমি এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। কিন্তু তারা আমার বিচার না করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়ে উল্টো আমার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।”
​আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, “আইনি প্রতিকারের আশায় আমি মোহনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে যাই। কিন্তু মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কোনো আইনি সহায়তা না দিয়ে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। কোনো অপরাধ না করা সত্ত্বেও আমাকে থানায় টানা ৭ ঘণ্টা বেআইনিভাবে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।” চুক্তিপত্রের অনুলিপি চাইতে গেলে তাঁকে প্রকাশ্য মারধর করা হয় দাবি করে তিনি জানান, সেই হামলার ভিডিও ও ছবি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে তাঁর কাছে সংরক্ষিত আছে।
​উত্থাপিত প্রধান দাবিসমূহ:
সংবাদ সম্মেলন থেকে নজরুল ইসলাম ৫টি প্রধান দাবি পেশ করেন:
১. জামানতের ৩১ লাখ টাকা এবং সংস্কারকাজে ব্যয়কৃত ৭,৩৬,৪২০ টাকা অবিলম্বে ফেরত প্রদান।
২. নৈশআঁধারে দোকান দখল, চুরি ও মারধরের নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩. থানায় ৭ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে মোহনপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা।
৪. আন্ডারগ্রাউন্ড দোকানে পানি প্রবেশে ১১ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির নিরপেক্ষ তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৫. হিসাব নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুলিশি হয়রানি ও জোরপূর্বক দখলচেষ্টা বন্ধে আইনি সুরক্ষা প্রদান।
​নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং পাওনা অর্থ উদ্ধারে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, দোকান ছাড়লে আমি জামানত ফেরত দিবো। এছাড়াও অন্যান্য অভিযোগগুলো তিনি অস্বীকার করেন। তিনি আরও বলেন একাধিকারবার বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ নিয়ে বসা হলেও তিনি তাদের মিমাংসা মেনে নেয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 dailyainerkantho কারিগরি সহযোগিতায়ঃ BDITWork.com