
এই আইনে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া ও শর্তাবলী নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধান আইন অনুযায়ী একটি সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:
১. মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরীয়াহ)
মুসলিম আইনে বিবাহ বিচ্ছেদের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে:
পুরুষের জন্য:
তালাক:
স্বামী মৌখিক বা লিখিতভাবে “তালাক” উচ্চারণের মাধ্যমে স্ত্রীকে তালাক দিতে পারেন।
প্রক্রিয়া:
১. স্বামীকে স্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে তালাকের নোটিশ পাঠাতে হবে।
২. নোটিশের একটি কপি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানকে পাঠাতে হবে।
৩. ৯০ দিনের বাধ্যতামূলক মীমাংসা সময়কাল থাকবে, যেখানে উভয় পক্ষ মীমাংসার চেষ্টা করতে পারেন।
৪. যদি মীমাংসা ব্যর্থ হয়, তবে এই সময়সীমা শেষে বিবাহ বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়।
নারীর জন্য:
খোলা:
স্ত্রীর পক্ষ থেকে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিবাহ বিচ্ছেদ শুরু করা যেতে পারে, সাধারণত মোহরানা (দেনমোহর) ফেরত দিতে হয়।
বিচারিক তালাক:
স্ত্রী দ্য ডিসলিউশন অফ মুসলিম ম্যারেজেস অ্যাক্ট, ১৯৩৯ অনুযায়ী নিম্নলিখিত কারণগুলোতে আদালতে তালাকের আবেদন করতে পারেন:
অত্যাচার
দুই বছরের বেশি সময় ধরে পরিত্যাগ
ভরণপোষণের ব্যর্থতা
স্বামীর যৌন অক্ষমতা বা গুরুতর অসুস্থতা
২. হিন্দু ব্যক্তিগত আইন
সাধারণত, হিন্দু আইন বিবাহ বিচ্ছেদকে স্বীকৃতি দেয় না, এবং বিবাহকে আজীবন সম্পর্ক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২-এর আধুনিক সংশোধনীতে সীমিত ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের বিধান রয়েছে।
হিন্দু দম্পতিরা মাঝে মাঝে অন্য ধর্ম গ্রহণের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারেন, তবে এটি বিরল এবং বিতর্কিত।
৩. খ্রিস্টান ব্যক্তিগত আইন
বাংলাদেশে খ্রিস্টানদের বিবাহ বিচ্ছেদ ডিভোর্স অ্যাক্ট, ১৮৬৯ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। বিবাহ বিচ্ছেদের কারণগুলো হলো:
পরকীয়া
দুই বছরের বেশি সময় ধরে পরিত্যাগ
অত্যাচার
অক্ষমতা
বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য একটি সিভিল কোর্টে আবেদন করতে হয়।
৪. বিশেষ বিবাহ আইন, ১৮৭২
অন্তর্মত বা অ-ধর্মীয় বিবাহের ক্ষেত্রে, এই আইনের আওতায় উভয় পক্ষের সম্মতিতে বা বিচারিক পদ্ধতিতে বিবাহ বিচ্ছেদ করা যেতে পারে।
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
ভরণপোষণ ও সন্তানের অভিভাবকত্ব:
বিবাহ বিচ্ছেদের পরে স্বামীকে স্ত্রীর ভরণপোষণের খরচ দিতে হতে পারে, বিশেষত যদি স্ত্রীর কাছে সন্তানের অভিভাবকত্ব থাকে।