
এস এম আনোয়ার
মনোহরগঞ্জ(কুমিল্লা)সংবাদাতা।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের জিনারাগ অহিদুল আলম ইসলামিয়া দারুল কুরআন ও এতিমখানা মাদ্রাসার ৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী তাহমিদ হোসেনকে শ্বাসরোধ করে হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় এলাকাবাসী সোমবার বেলা ১১টায় হাসনাবাদে (১৮-আগস্ট) মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
জানা যায়,গত ১৪ এপ্রিল সকালে উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের জিনারাগ অহিদুল আলম ইসলামীয়া দারুল কোরআন ও এতিমখানা মাদরাসার ছাদ থেকে নুরানি বিভাগের ছাত্র তাহমিদ (৯) নামের এক শিশু শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। ওইদিনই তাহমিদের মামা মামুন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ময়নাতদন্তের সাড়ে তিন মাস পর রোববার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া যায়। রিপোর্টে শিশু তাহমিদকে স্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া যায়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন,হাসনাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মুনাফ, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক ফরিদ উদ্দিন শিবলু, মাদরাসার মুহতামিম আবু ইউসুফ, তাহমিদের মামা ও মামলার বাদী মোঃ মামুন, আবদুল মজিদ ভূইয়া, বেলাল হোসেন বেলাল, সাবমির মাহমুদ শামীমসহ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন,একজন শিশু শিক্ষার্থীকে এভাবে হত্যা করার মতো ঘটনা সমাজে অশনি সংকেত। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রশাসনের কাছে আমরা আহ্বান জানাই—তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। যদি প্রশাসন যথাযথ ভূমিকা না নেয়, তাহলে জনগণ বিচার পাওয়ার আশাও হারাবে। তারা হুশিয়ার করে বলেন, তাহমিদের হত্যাকারীদের কেউ বাঁচানোর চেষ্টা করলে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো। দ্রুত বিচার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন তারা।
তাহমিদের পিতা মাইন উদ্দিন বলেন,আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, ময়নাতদন্তে সেটা প্রমাণ হয়েছে। এরপরও কেন এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি? প্রশাসনের নিরবতা আমাদের আতঙ্কিত করছে।
আমি গরিব মানুষ, আমার একমাত্র ছেলে আলেম হতে চেয়েছিল। আমি তাকে আলেম বানাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। আমি হত্যার বিচার চাই।
নিহত তাহমিদের মামা মামুন বলেন,হত্যা কাণ্ডটি পূর্ব পরিকল্পিত ও নির্মম। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি,দ্রুত এই হত্যা কান্ডের বিচার না হলে দুর্বার আন্দোলনে যাব আমরা।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের রহস্যজনক নিরবতা ও দুর্বলতায় হত্যা মামলার আসামিরা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে।এই ঘটনা আমাদের আইনের প্রতি আস্থা নষ্ট করে দিচ্ছে!
মনোহরগঞ্জ থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে বলেন,শিশু তাহমিদের লাশ উদ্ধারের পর মাদরাসা শিক্ষক শাহারাস্তি উপজেলার ছোটতুলা গ্রামের হাফেজ আবদুর রহমানের ছেলে মোঃ রেদোয়ান (৩০)কে সন্দেহজনকভাবে আটক করে দুইবার রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করি, দুইবারেই রেদোয়ান হত্যার কথা অস্বীকার করে, আটককৃত শিক্ষক রেদোয়ান বর্তমানে জামিনে রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি প্রকৃত খুনিদের বের করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার জন্য।
উল্লেখ্য,তাহমিদ নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার বানসা তরফদার বাড়ির মাইন উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৪ এপ্রিল সকাল বেলায় তাহমিদ ক্লাসে অনুপস্থিত থাকায় ছাত্ররা তাকে খুঁজতে গিয়ে ছাদে লাশ পড়ে থাকতে দেখে। পরে পুলিশকে জানালে লাকসাম সার্কেল অফিসার সুমেন মজুমদার মনোহরগঞ্জ থানার এসআই প্রবীণসহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
এলাকাবাসী,শিশু তাহমিদ হত্যার বিচার সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করে অপরাধীদের চিহ্নিত করে অতি দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।