
সিলেট প্রতিনিধি : সুপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোকে রাজনৈতিক ‘বলির পাঁঠা’ বানানোর এক নোংরা খেলা শুরু হয়েছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তরুণ রাজনীতিবিদ ও অ্যাক্টিভিস্ট মাওলানা আতিকুর রহমান কামালী। আজ ( ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ) মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, একটি বিশেষ মহল দেশের চলমান রাজনীতি ও সামাজিক পরিস্থিতির বিপরীতে আলেম সমাজকে দাঁড় করানোর জন্য নানামুখী অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র কেবল ধর্মীয় শিক্ষার ওপর আঘাত নয়, বরং দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার এক গভীর চক্রান্ত।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন: মাওলানা আইনুল হক কাসেমী এবং মাওলানা সাইদুল ইসলাম ভাইকে গ্রেফতারের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনভিপ্রেত। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, কওমী আলেম কাসেম ফারুককে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করে পরদিন যখন আদালতে তোলা হলো, তখন তাঁর চোখে গভীর আঘাতজনিত ক্ষত দেখা গেছে। এটি স্পষ্টতই মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে কামালী বলেন:
“জুলাই-আগস্টের চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জনের পরও পুলিশের সেই পুরনো ‘খাইসলত’ এবং রাষ্ট্রের ইসলামবিদ্বেষী নীতির কোনো পরিবর্তন আমরা দেখছি না। নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় সরকার যখন তৎপর হয়, তখন আলেমদের ওপর এই জুলুম রাষ্ট্রকাঠামোর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
মাওলানা আতিকুর রহমান কামালী দৃঢ়ভাবে উচ্চারণ করেন:
আলেম সমাজ এ দেশের মাটি ও মানুষের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদেরকে হয়রানি করে বা জেল-জুলুমের ভয় দেখিয়ে কণ্ঠরোধ করা যাবে না। মাদ্রাসা ও আলেমদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে যারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়, তারা মূলত জাতির নৈতিক মেরুদণ্ডকেই ভেঙে দিতে চায়।
বিবৃতিতে তিনি দুই দফা দাবি পেশ করেন:
১. আলেমদের নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক সকল অপচেষ্টা এবং হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২. গ্রেফতারকৃত মাওলানা আইনুল হক কাসেমী ও মাওলানা সাইদুল ইসলামসহ সকল আলেমকে অনতিবিলম্বে সসম্মানে মুক্তি দিয়ে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দিতে হবে।