
ঢাবিতে কওমি শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি: রাজনৈতিক অপপ্রচারের শিকার দুই তরুণ
বিশেষ প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে কওমি মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ উঠেছে। রাজনৈতিক দলীয় কোন্দল এবং সাইবার ট্রায়ালের বলি বানিয়ে দুই তরুণের চরিত্রহননের এই ঘটনাকে রাজনীতির চরম দেউলিয়াত্ব বলে মন্তব্য করছেন সচেতন মহল।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নোয়াখালীর জামেয়া মাদানিয়া মাইজদী মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থী সম্প্রতি এই অন্যায়ের শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় হলের একটি কক্ষে গলায় ছুরি ধরে ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অসত্য স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। পরবর্তীতে ছাত্রদলের একটি অংশ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে, ঘটনা প্রকাশের পর রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ দৃশ্যমান হয়। প্রথমে শিক্ষার্থীদের ‘শিবির’ আখ্যা দেওয়া হয়, পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সংগঠনটি দায় এড়াতে তাদের ওপর দায় চাপায়। উভয় পক্ষের এই পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ির মাঝে মূল ভিকটিম হন সাধারণ ওই দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। সত্য-মিথ্যা যাচাই না করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনলাইন ট্রায়াল চালানো হয়, যা পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, কাউকে জিম্মি করে অসত্য ভিডিও তৈরি ও তা নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে সমাজ এবং একটি নির্দিষ্ট শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর সংস্কৃতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এভাবে নিরপরাধ মানুষের সম্মানহানি কোনো সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ হতে পারে না।
ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের প্রতি ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করতে এবং অনলাইন মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হচ্ছে।