1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
পঞ্চগড়ে সমন্বয় সভায় গ্রাম আদালতে ভরণপোষণ অন্তর্ভুক্তি - dailyainerkantho
৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| শুক্রবার| রাত ১২:৩৮|

পঞ্চগড়ে সমন্বয় সভায় গ্রাম আদালতে ভরণপোষণ অন্তর্ভুক্তি

খাদেমুল ইসলাম
  • Update Time : বুধবার, মে ৬, ২০২৬,
  • 32 Time View

 

 

পঞ্চগড়ে সমন্বয় সভায় গ্রাম আদালতে ভরণপোষণ অন্তর্ভুক্তি

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি : খাদেমুল ইসলাম!

পঞ্চগড় সদর এবং বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয় শীর্ষক ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৬ মে ) দুপরে পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা।

 

সভায় প্রধান আলোচ্য বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা গ্রাম আদালত ব্যবস্থায় স্ত্রীর ভরণপোষণ সংক্রান্ত নতুন সংযোজন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

তিনি জানান, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬-এর তফসিলের দ্বিতীয় অংশে ২০২৪ সালের ২য় সংশোধনীর মাধ্যমে “কোন স্ত্রী কর্তৃক তার বকেয়া ভরণপোষণ আদায়ের মামলা” অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে ধর্ম নির্বিশেষে যে কোনো স্ত্রী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তার বকেয়া ভরণপোষণ বা খোরপোষ আদায়ের জন্য মামলা করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, পূর্বে শুধুমাত্র মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী মুসলিম নারীরা সালিশি পরিষদের মাধ্যমে এ দাবি করতে পারতেন, যা এখন সকল ধর্মের নারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

ইউএনও বলেন, একজন স্ত্রী সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বকেয়া ভরণপোষণ আদায়ের জন্য মাত্র ২০ টাকা ফি দিয়ে গ্রাম আদালতে মামলা করতে পারবেন। তবে গ্রাম আদালত শুধুমাত্র ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারবে তালাক, সন্তানের অভিভাবকত্বসহ অন্যান্য পারিবারিক বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার এর নেই।

ভরণপোষণের সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ভরণপোষণ বলতে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানসহ ব্যক্তিগত জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণকে বোঝায়, যা সংশ্লিষ্ট পরিবারের সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্ত্রীর ভরণপোষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব স্বামীর, এবং স্ত্রীর নিজস্ব আয় বা আর্থিক সক্ষমতা থাকলেও এ দায়িত্ব থেকে স্বামী অব্যাহতি পাবে না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দাম্পত্য-নিবাসে একত্রে বসবাস করা স্বামী-স্ত্রীর সাধারণ দায়িত্ব হলেও বৈধ ও যৌক্তিক কারণে স্ত্রী পৃথকভাবে বসবাস করেও ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার রাখেন।

ভরণপোষণের পরিমাণ নির্ধারণে কোনো নির্দিষ্ট সূত্র নেই উল্লেখ করে ইউএনও বলেন, স্বামীর আয়, পরিবারের আর্থিক অবস্থা ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এ হার নির্ধারণ করতে হবে।

মুসলিম আইনের আলোকে তিনি বলেন, বিবাহ একটি দেওয়ানি চুক্তি এবং বৈধ বিবাহের ফলস্বরূপ স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে খোরপোষ পাওয়ার অধিকারী। তালাকের পর মুসলিম নারীর ক্ষেত্রে ইদ্দতকাল (৯০ দিন) পর্যন্ত ভরণপোষণ প্রদান বাধ্যতামূলক, এবং স্ত্রী গর্ভবতী হলে সন্তান জন্মদান পর্যন্ত এ দায়িত্ব বহাল থাকে।

সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে এ সেবার সুফল পৌঁছে দিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মোঃ মিজানুর রহমান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 dailyainerkantho কারিগরি সহযোগিতায়ঃ BDITWork.com