
মাধবপুরে অপটিক্যাল ফাইবার কেটে চুরির অভিযোগ, তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
ফরাস উদ্দিন
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ইন্টারনেট সার্ভিসের প্রধান অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল কেটে প্রায় ৫০০ মিটার ক্যাবল ও একটি টিজি বক্স চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এক ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (ISP) ব্যবসায়ী।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ কুদ্দুস আহমেদ দাবি করেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শাহজাহানপুর ইউপির নয়াগাঁও স্কুল ও মসজিদের উত্তর পাশে তাদের ইন্টারনেট সংযোগের প্রধান অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল কেটে দেওয়া হয়।
অভিযোগে অভিযুক্ত তিনজন হলেন কৃষ্ণপুর গ্রামের সপন মিয়া, মিতুন মিয়া ও সাগর।
অভিযোগকারীর দাবি, পূর্বশত্রুতা ও ব্যবসায়িক ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা ওই স্থানে ঝুলন্ত অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল কেটে দেন। পরে সেখান থেকে আনুমানিক ৫০০ মিটার ক্যাবল ও একটি টিজি বক্স নিয়ে যাওয়া হয়। ক্যাবলের কিছু অংশ ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্যাবল কেটে দেওয়ার ফলে ওই এলাকার গ্রাহকদের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগকারীর দাবি। অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত মালামালের আনুমানিক মূল্য ২০ হাজার টাকা এবং সংযোগ পুনরায় সচল করতে আরও অন্তত ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে মোট প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর অভিযোগকারী ও তার কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্যাবল কাটার বিষয়ে অভিযুক্তদের কাছে জানতে চাইলে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে চারজনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন নয়াগাঁও গ্রামের ফরহাদ মিয়া, হারুন মিয়া, টুটুল ভূইয়া ও তানভীর।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সপন মিয়া, মিতুন মিয়া ও সাগরের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাধবপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগে উত্থাপিত ক্যাবল কাটা, চুরি ও হুমকির অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে আইনগতভাবে নির্ধারিত হবে।