
জমিয়ত বিরোধী অপপ্রচার: সস্তা সমালোচনা নাকি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক এজেন্ডা?
মাওলানা আতিকুর রহমান কামালী
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি ও রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে যে পদ্ধতিগত ও আগ্রাসী নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা গভীর রাজনৈতিক বিশ্লেষণের দাবি রাখে। আপাতদৃষ্টিতে একে সাধারণ সমালোচনা মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ন্যারেটিভ ও আদর্শিক দেউলিয়াত্ব।
যুক্তি ও রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে এই অপপ্রচারের অসারতা এবং এর পেছনের গভীর চক্রান্তকে নিম্নোক্তভাবে বিশ্লেষণ করা যায়:
১. কৌশলগত রাজনৈতিক জোট ও মতাদর্শিক স্বাতন্ত্র্য
যেকোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কৌশলগত জোট গঠন বা নির্বাচনী সমঝোতা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। বিএনপির সাথে জমিয়তের জোটবদ্ধ হওয়া সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরীখে গৃহীত সিদ্ধান্ত, যা দলটির নিজস্ব আদর্শিক অবস্থানকে বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ করে না।
যুক্তি: বৈশ্বিক ও দেশীয় রাজনীতিতে বড় বড় দলগুলো বৃহত্তর স্বার্থে জোট গঠন করে। কিন্তু জমিয়তের ক্ষেত্রে এই জোটকে পুঁজি করে যারা প্রশ্ন তোলেন, তারা মূলত জমিয়তের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, নীতি ও আদর্শিক অনমনীয়তাকে আড়াল করতে চান। দু-একজনের ব্যক্তিগত বক্তব্য বা ক্ষোভকে কেন্দ্র করে একটি ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ দলের সামগ্রিক অবদানকে অস্বীকার করা চরম রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ছাড়া কিছুই নয়।
২. সঠিক ধারার ইসলামী রাজনীতি নির্মূলের সুপরিকল্পিত ছক
বাংলাদেশ থেকে আপসহীন ও বিশুদ্ধ ধারার ইসলামী রাজনীতি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার আওয়াজকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত চলছে।
যুক্তি: এই চক্রান্তের প্রধান বাধা হলো জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। কারণ, ইতিহাসের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে জমিয়ত দেশ, ইসলাম ও মানুষের অধিকার রক্ষায় আপসহীন ভূমিকা পালন করেছে। যখন কোনো শক্তিকে আদর্শিক বা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয় না, তখন তাদের প্রধান হাতিয়ার হয় সিস্টেমেটিক সাইবার বুলিং ও চরিত্রহনন। জমিয়তের বিরুদ্ধে চলমান অনলাইন প্রোপাগান্ডা মূলত সেই পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইলিংয়েরই অংশ।
৩. আপসহীনতার খেসারত ও অবাধ্য শক্তিকে দমনের চেষ্টা
নেপথ্যের কুশীলবরা খুব ভালো করেই জানে যে, জমিয়তের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বা ভয় দেখিয়ে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা অসম্ভব।
যুক্তি: জমিয়ত এমন একটি দল যার শেকড় এদেশের তৌহিদী জনতার হৃদয়ে প্রোথিত। এই শক্তিকে আদর্শিকভাবে ভাঙা সম্ভব নয় বলেই অপশক্তিগুলো অপপ্রচার ও চরিত্রহননের মাধ্যমে দলটির সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা কমানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এটি রাজনৈতিকভাবে জমিয়তকে কোণঠাসা করার একটি ব্যর্থ প্রয়াস মাত্র।
৪. ঘরের শত্রুদের আত্মঘাতী ভূমিকা: সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি
এই পুরো নোংরা খেলায় সবচেয়ে দুঃখজনক এবং পরিতাপের বিষয় হলো—ইসলামী অঙ্গনেরই কিছু সরলমনা বা অতি-উৎসাহী ভাই অজান্তেই এই অপপ্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন।
যুক্তি: প্রতিপক্ষের সাজানো ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের ভাইদের বিরুদ্ধে কুৎসায় লিপ্ত হওয়া অত্যন্ত আত্মঘাতী। যারা আজ জমিয়তের বিরোধিতা করে অপশক্তির হাত শক্ত করছেন, তারা মূলত নিজেদের ভবিষ্যৎকেই অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। কারণ, জমিয়তের মতো একটি মজবুত ঢাল দুর্বল হলে এদেশের সামগ্রিক ইসলামী রাজনীতিই অস্তিত্বের সংকটে পড়বে।
★ শেষ কথা: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং এটি এদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ইসলামী মূল্যবোধের এক অতন্দ্র প্রহরী। সাময়িক সাইবার বুলিং বা সস্তা অপপ্রচার চালিয়ে এই শতাব্দীর প্রাচীন বটবৃক্ষকে উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়। দেশের সচেতন তৌহিদী জনতা ও রাজনৈতিক কর্মীদের এই ষড়যন্ত্রের গভীরতা অনুধাবন করে বিভ্রান্তি কাটিয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার সময় এসেছে।
মাওলানা আতিকুর রহমান কামালী
ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক
যুব জমিয়ত সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন শাখা