
দিরাই রাজানগরকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ার প্রত্যয় সাংবাদিক কুদরত পাশার
সাইফ উল্লাহ, নিজস্ব প্রতিবেদক::
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী একে কুদরত পাশা। নির্বাচনী মাঠে তিনি নিয়মিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়, তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনা এবং মানুষের পাশে থাকার মধ্য দিয়ে নিজের প্রার্থিতার বিষয়টি জানান দিচ্ছেন তিনি।
দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে রাজানগর ইউনিয়নের মানুষের জীবন-সংগ্রাম, হাওরাঞ্চলের বাস্তবতা এবং এলাকার নানা সমস্যা কাছ থেকে দেখেছেন কুদরত পাশা। এবার সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সরাসরি জনগণের সেবা করার প্রত্যয় নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান তিনি।
প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে একে কুদরত পাশা বলেন, “দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে খুব কাছ থেকে মানুষের জীবন-সংগ্রাম, সমস্যা ও সম্ভাবনা দেখেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার সরাসরি জনগণের সেবা করার প্রত্যয় নিয়ে রাজানগর ইউনিয়নের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।”
তিনি বলেন, একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব শুধু রাস্তা-ঘাট নির্মাণ বা অবকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা, সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ইউনিয়ন পরিষদকে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাও চেয়ারম্যানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
কুদরত পাশার নির্বাচনী ভাবনায় রাজানগর ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও মানুষের প্রত্যাশাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, কৃষক ও হাওরবাসীর স্বার্থ রক্ষা, যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা ও কর্মমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুফল প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে চান।
তার ভাষায়, “আমি চাই ইউনিয়ন পরিষদ হবে জনগণের পরিষদ-কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের একক সম্পত্তি নয়। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণি-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে চাই।”
নির্বাচনী ভাবনার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “চেয়ারম্যানের দরজা হবে জনগণের জন্য খোলা-দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য সমান সেবা।”
কুদরত পাশার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ‘স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সঠিক তথ্যনির্ভর ইউনিয়ন’। তিনি বলেন, ইউনিয়নের উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি বরাদ্দ ও পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চান। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং পরিষদের কার্যক্রমে জনগণের জবাবদিহির সুযোগ তৈরি করতে চান তিনি।
তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান হতে চাই ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের সেবা ও ইউনিয়নের পরিবর্তনের জন্য। আমি প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছড়াতে চাই না। জনগণের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করতে চাই।”
রাজানগর ইউনিয়নকে নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা তুলে ধরে সাংবাদিক কুদরত পাশা বলেন, “রাজানগরকে শুধু একটি প্রশাসনিক এলাকা হিসেবে দেখি না; এটি আমার মানুষের ইউনিয়ন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ইউনিয়ন। আগামী দিনের রাজানগরকে একটি দুর্নীতিমুক্ত, উন্নয়নবান্ধব, মানবিক ও আধুনিক ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।”
জানা যায়, সাংবাদিকতার পাশাপাশি একে কুদরত পাশা সামাজিক ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দিরাই উপজেলা শাখার একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
রাজনীতির পাশাপাশি হাওর ও জনপদের মানুষের অধিকার আদায় এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন কুদরত পাশা। হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ‘হাওর মন্ত্রণালয়’ বাস্তবায়নের দাবিতে গড়ে ওঠা হাওর মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন পরিষদ, সুনামগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। একই সঙ্গে হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
সাংবাদিকতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড, উন্নয়নমূলক কাজ এবং হাওরাঞ্চলের মানুষের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রাজানগর ইউনিয়নের মানুষের জন্য কাজ করতে চান কুদরত পাশা।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রাজানগর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, ভালোবাসা, সমর্থন ও মূল্যবান ভোট প্রত্যাশা করেছেন চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী একে কুদরত পাশা।##
সাইফ উল্লাহ
মোবা: ০১৭১২৪৫১৪৪৬
তারিখ: ১০/৯/২৬