
০৩ জুলাই ২০২৫ * বেলা ১১:৩০ টা * জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে, এক মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেটি আয়োজন করে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআতরস) এবং নাগরিক উদ্যোগ,
প্রিয় সুধী, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিই মাতএম) এবং নাগরিক উদ্যোগ-এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে নারীর প্রতি নির্যাতন এবং সহিংসতার ঘটনা আসংখ্যাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্যাতন এবং সহিংসতা থেকে নারী ও শিশুর সুরক্ষায় বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য আইন প্রণয়ন করা হলেও সেগুলো কার্যকরভাবে নারীর প্রতি নির্যাতন ও সহিংসতার প্রতিরোধ এবং প্রতিকারে অবদান রাখতে পারছে না। মাগুরায় গত মার্চ, ২০২৫ এ ৮ বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষন এবং হত্যা মামলার দ্রুত বিচার এবং ধর্ষনকারী বিটু শেখ এর সর্বোচ্চ শাস্তি আমাদের বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে একদিকে যেমন আমাদের আশাবাদী করে অন্যদিকে নারীর প্রতি সংঘটিত অন্যান্য ধর্ষনের ঘটনার বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা আমাদের মর্মাহত করে। পাশপাশি বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে নির্যাতনকারীদের বুনো আনন্দ লাভের বিষয়টি। সমাজের মানবিক অবক্ষয়ের চিহ্ন বহন করে। আমরা জানি, যে কোন ধরনের নির্যাতনের ঘটনার শিকার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে নারী এবং শিশুরাই বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে যেভাবে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলেছে সেগুলোর প্রতিকার এবং প্রতিরোধে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বাংলাদেশের আইন এবং বিচার ব্যবস্থার উপর মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলবে। গত ২৬ জুন ২০২৫ (বৃহস্পতিবার) রাতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাহেরচর পাঁচকিত্তা গ্রামে ঘরে ঢুকে এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ সময় শব্দ শুনে লোকজন এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। কিন্তু ওই নারীকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখে কয়েকজন তাঁকে মারধর করেন এবং মারমরের ভিডিও ধারণ করেন। শনিবার (২৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই নারীকে নিপীড়নের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সকলের নজরে আসে। শুক্রবার (২৭ জুন) ওই নারী মুরাদনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ মূল অভিযুক্ত ফজর আলী ও নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে একই এলাকার আবদুল হান্নানের ছেলে মো. আলী সুমন, জাফর আলীর ছেলে রমজান, মো, আলমের ছেলে আরিফ ও তালেম হোসেনের ছেলে অনিককে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে ধর্ষনের ঘটনাটি নিয়ে গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন যোগযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের খবর প্রচার চলমান রয়েছে। এই মানববন্ধনের মাধ্যমে আমরা দাবি জানাচ্ছি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ যাতে দ্রুত সময়ে প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটনের মাধ্যমে নারী ধর্ষনের সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসে। এছাড়াও আমরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্ঘাতিত নারীর ছবি ও ভিডিও প্রচার এবং প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে নির্যাতনের ভিডিওসহ নির্যাতিত নারীর ভিডিও এবং ছবি সকল মাধ্যম থেকে অপসারনের অনুরোধ জানাচ্ছি। ২৯ জুন, ২০২৫ ভোলা জেলা তজুমদ্দিন উপজেলায় স্বামীকে বেধে রেখে রাতভর স্ত্রীকে গণধর্ষনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত উল্লেখ করে মোট ৭ জনের বিরুদ্ধে তজুমদ্দিন থানায় গত ৩০ জুন, ২০২৫ নির্যাতিত নারীর স্বামী একটি মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে পুলিশ আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করছেন। বাংলাদেশের একটি জাতীয় পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের মে মাসে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি ৩১০টি সহিংসতার ঘটনা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৪% বেশি। নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি নির্যাতন এবং সহিংসতার ঘটনা বন্ধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলবে যা কোনভাবেই আমাদের কাম্য নয়। এই মানববন্ধন এবং সমাবেশের মাধ্যমে আমরা নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সকল ধরনের নির্যাতন এবং সহিংসতার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।