
ভুয়া র্যাবকে ধাওয়া করল আসল র্যাব, দুই পক্ষকেই গণপিটুনি দিল জনতা।
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। হর্ন বাজাতে বাজাতে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসা একটি মাইক্রোবাস স্থানীয়দের সন্দেহের উদ্রেক করে। এর কিছুটা পেছনে আরেকটি মাইক্রোবাস ধাওয়া করছিল। বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় স্থানীয়রা একটি গাছ ফেলে প্রথম মাইক্রোবাসটিকে আটকে দেয়।
গাড়ি থেকে নামা ব্যক্তিরা নিজেদের র্যাব সদস্য বলে দাবি করলেও তাঁদের কারও গায়ে র্যাবের পোশাক ছিল না। এতে সন্দেহ আরও বাড়ে। স্থানীয়রা তাঁদের পালাতে দেখলে আটক করে মারধর শুরু করেন।
ঠিক সেই সময়ে পেছনের মাইক্রোবাসটি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এতে থাকা প্রকৃত র্যাব সদস্যরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে চাইলে উত্তেজিত জনতা তাঁদের দিকেও চড়াও হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নগরকান্দা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই আমীরুল ইসলাম জানান, উদ্ধারকৃতদের থানায় আনা হয় এবং পরে র্যাব-১০ এর সদস্যরা তাঁদের ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর থানায় নিয়ে যান।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আটক ব্যক্তিরা র্যাব পরিচয়ে একাধিক অপরাধে জড়িত ছিলেন। মারধরের শিকার ভুয়া র্যাব পরিচয়দানকারী ব্যক্তিরা হলেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার ছাব্বিশপাড়া গ্রামের স্বপন খান (৪৫), চাঁদপুর সদরের মদনা গ্রামের মিন্টু গাজী (৪৫), গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কুনসিবাড়ি গ্রামের মো. সাইফুল ইসলাম (৩০), মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আন্ডারচর এলাকার মো. জামিল (৩২) এবং ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার হিদাডাঙ্গা গ্রামের দিদার (২৯)।
র্যাব-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার তারিকুল ইসলাম বলেন, র্যাব-১০–এর হেডকোয়ার্টার থেকে একটি টিম ডাকাত দলকে ধাওয়া করে আসছিল। স্থানীয় লোকজন ভুল বুঝে উভয় পক্ষের ওপর চড়াও হন। কিছু র্যাবের সদস্যরা সাদাপোশাকে থাকায় উত্তেজিত লোকজন তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে প্রকৃত র্যাব বলে চিনতে ভুল করেন।
র্যাব-১০ মুন্সিগঞ্জ ক্যাম্পের কমান্ডার আনোয়ার হোসেন জানান, তাঁরা অভিযুক্তদের শ্রীনগর থেকে অনুসরণ করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। যদিও তারা এক্সপ্রেসওয়ের টোল পার হয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল, শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে যায়।
জনতার আক্রমণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণ যখন ভুয়া র্যাব পরিচয়কারীদের মারপিট করছিলেন, তখন তাঁদের যাতে মেরে না ফেলেন, এই আশঙ্কায় আমরা জনগণের পিটুনি থেকে তাঁদের বাঁচানোর চেষ্টা করি। তবে প্রথম পর্যায়ে জনগণ আমাদেরও ভুয়া র্যাব মনে করেছিলেন। এ কারণে আমাদের সঙ্গে কিছু ঘটনা ঘটেছিল, তবে তা আমলযোগ্য নয়।’