
“বাঁচলে বাঁচার মতো বাঁচবো।
কারো রক্তচক্ষুর ভয়ে,
ন্যায়কে ন্যায়,আর অন্যায়কে অন্যায় বলতে পিছপা হবো না।” – শহীদ আবু সাঈদ
শহীদ আবু সাঈদ, জুলাই আন্দোলনের এক সাহসের মিনার।
যার শাহাদাতের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার স্বপ্ন বুনেছিল, মুক্ত হওয়ার উজ্জীবনী শক্তিতে বলীয়ান হয়ে দেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছে।
শহীদ আবু সাঈদ ২০০১ সালে রংপুরের জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে মকবুল হোসেন ও মনোয়ারা বেগমের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। শহীদ আবু সাঈদ ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট।
তিনি স্থানীয় জাফর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপরে স্থানীয় খালাশপীর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করেন। এরপর তিনি ২০১৮ সালে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাশ করেন। পরে তিনি ২০২০ সালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন।
২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের ১৬ই জুলাই দুপুর ১২টা থেকেই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় অঞ্চলে কোটা বিরোধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছিলো। শহীদ আবু সাঈদ এই আন্দোলনের সম্মুখ ভাগেই অবস্থান করছিলো সবসময়।
১৬ই জুলাই দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার দিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত নিরস্ত্র শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। ছাত্রদের সবাই সরে গেলেও শহীদ আবু সাঈদ দুহাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে যান। এই অবস্থায় পুলিশ খুব নিকট থেকেই তার উপর গুলি ছুড়ে। তারপরও অবস্থান থেকে সরেননি বিপ্লবী আবু সাঈদ, সাহস আর বিশ্বাস নিয়ে দাঁড়িয়েই ছিলেন তিনি।
একপর্যায়ে পরপর পুলিশের গুলির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হওয়ার পর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাকে হাসপাতালে নেয়ার আগেই তিনি শহীদ হন।
শহীদ আবু সাঈদের সাহসী কুরবানির মধ্য দিয়ে বিপ্লবের ঢেউ উত্তর বঙ্গ থেকে দেশজুড়ে বিদ্যুৎবেগে ছড়িয়ে পড়ে।
যার ফলে খুনি হাসিনার স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে।