
রাজশাহী রেলওয়েতে নিরাপত্তা বাহিনীর ‘তোলাবাজি’
মশিউর রহমান রাজশাহী :
রেলপথের নিরাপত্তা ও যাত্রীদের সুরক্ষা দেওয়ার মূল দায়িত্ব যাদের ওপর, সেই রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) একটি চক্রের বিরুদ্ধে গড়ে উঠেছে বেপরোয়া দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন চকি এলাকা থেকে শুরু করে পুরো পশ্চিমাঞ্চল রেঞ্জে এ চক্রের রাজত্ব চলছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্টেশন ও আশপাশের প্রতিটি স্থায়ী-অস্থায়ী দোকান, ফুটপাত এবং স্টেশনের ভেতরের ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা তোলা হচ্ছে। অভিযোগের আঙুল সরাসরি চকি পরিদর্শক হাসান সাহাবুল, এএসআই ফজলুল এবং এই পুরো প্রক্রিয়ার ‘মাস্টারমাইন্ড’ আরএনবি’র চিফ কমান্ডেন্ট আশাবুল ইসলামের দিকে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শক হাসান সাহাবুলের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এএসআই ফজলুল প্রতিদিন ও প্রতি মাসে স্টেশনের ভেতরের ও বাইরের দোকানগুলো থেকে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা আদায় করেন। অভিযোগ রয়েছে, ফজলুল মূলত চিফ কমান্ডেন্ট আশাবুলের অত্যন্ত আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় স্টেশনে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পান না।
শুধু চাঁদা তোলাই নয়, চিফ কমান্ডেন্ট আশাবুল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে পাহাড়সম অনিয়মের অভিযোগ। রেলওয়ের ভেতরের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান—রেলে বদলি বাণিজ্য, কালোবাজারিদের সঙ্গে আঁতাত করে টিকিট বিক্রি, বিনা টিকিটের যাত্রীদের আটক করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়সহ সব ধরনের অবৈধ আয়ের নিয়ন্ত্রক তিনি। প্রতি মাসে পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে যে বিপুল অংকের অবৈধ টাকা ওঠে, তার একটি বড় অংশ পৌঁছায় চিফ কমান্ডেন্টের পকেটে। নিজের পছন্দের ও বিশ্বস্ত অনুসারীদের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসিয়ে তিনি এই অনিয়ম পরিচালনা করেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে উপার্জিত অবৈধ অর্থ দিয়ে চিফ কমান্ডেন্ট আশাবুল রাজশাহী নগরীর অভিজাত এলাকা ভদ্রায় গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল ৫ তলা বাড়ি। ইতোমধ্যে তার দুর্নীতির বিষদ বিবরণ উল্লেখ করে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই ফজলুল চাঁদা তোলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি শুধু আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করি।”
এ বিষয়ে চকি পরিদর্শক হাসান সাহাবুল বলেন, “স্টেশন এলাকায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অনিয়মের সুযোগ নেই। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড এবং দুদকে অভিযোগের বিষয়ে চিফ কমান্ডেন্ট আশাবুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে একটি গোষ্ঠী এসব মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।”