
ইবিতে শিবিরের দ্বিতীয় শহীদ আমিনুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী স্মরণে আলোচনা সভা
ইবি প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৯০তম ও ইবি ছাত্রশিবিরের দ্বিতীয় শহীদ আমিনুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ৪র্থ তলায় ৪০৩ নম্বর কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, সহকারী সেক্রেটারি (ঢাকা মহানগরী উত্তর) ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা: ফখরুদ্দিন মানিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন আইআইইআর পরিচালক ও আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নাজিমুদ্দিন, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের যুব বিভাগের সহ-সভাপতি হাসানুল বান্না চপল সহ ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
হাসানুল বান্না চপল বলেন, “শহীদ আমিনুর রহমান ভাই গুলিবিদ্ধ অবস্থায়ও আমাকে বলেছিলেন, ‘চপল, ঐদিকে যেও না।’ পরে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘আমি যে উদ্দেশ্যে ইসলামী আন্দোলন করেছি, সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আমার সামনে। আমি শাহাদাতের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ তাঁর সেই কথাগুলো আজও আমাকে অনুপ্রাণিত করে। এই ময়দানে শহীদ রফিক, আল মামুন ও শহীদ মহসিন কবিরসহ অনেকে শাহাদাতবরণ করেছেন। তাঁদের ত্যাগের ফলেই আজকের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।”
অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯২ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পাঁচজন ভাই শাহাদাতবরণ করেছেন—মামুন ভাই, আমিনুর রহমান ভাই, মহসিন কবির ভাই, আল মামুন ভাই ও রফিকুল ইসলাম ভাই। পরবর্তীতে আরও দুজন ভাই নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁদের ত্যাগ ও কোরবানির কথা আমাদের সবসময় স্মরণ রাখতে হবে।
বিশেষ করে ২৪-এর পরিবর্তনের পর নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব অনেক বেড়েছে। সময়ের অপচয় বন্ধ করে পড়াশোনা, দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনে মনোযোগী হতে হবে। আদর্শ শিক্ষার্থী হতে ফলাফল, চরিত্র, নৈতিকতা ও দ্বীনি জীবনে নিজেকে উন্নত করতে হবে এবং মাদক ও অশ্লীলতার মতো সমস্যাগুলো দূর করে শহীদের রক্তে গড়া এই ক্যাম্পাসকে সুন্দর, নিরাপদ ও নৈতিক পরিবেশে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”
ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আমিনুর রহমান ছিলেন আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ১৯৯১-৯২ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট।
তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ক্যাম্পাসে সরাসরি সংঘর্ষে শহীদ হওয়ার ঘটনাগুলোর মধ্যে আমিনুর রহমানের শাহাদাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সংঘর্ষের দিন বৃষ্টির মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, সাদ্দাম হোসেন হলসহ আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। সে সময় কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে তাদের নিরাপত্তার চেষ্টা করেছিলেন। সংঘর্ষে আমিনুর রহমানের শরীরে ২০টিরও বেশি গুলির আঘাত লাগে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থীকে যেন আমিনুর রহমানের মতো সংঘর্ষে জীবন দিতে না হয়, সে ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে সংকটের সময় ক্যাম্পাসের আশপাশের সড়ক ও এলাকাগুলো যেন নিরাপদ থাকে, সে বিষয়েও পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা: ফখরুদ্দীন মানিক বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ ২৪-এর আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, আল্লাহ তাদের শাহাদাত কবুল করুন এবং গুম হওয়া ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাস ভাইকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিন। শহীদরা নিজেদের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়—আল্লাহর জমিনে ইনসাফ ও দ্বীন কায়েমের জন্যই জীবন উৎসর্গ করেছেন।
আমরা এমন একটি ক্যাম্পাস চাই, যেখানে কোনো লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি, সহিংসতা, মাদক, চাঁদাবাজি কিংবা টেন্ডারবাজি থাকবে না। যারা ছাত্ররাজনীতিকে আয়ের উৎস বানিয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে, তাদের কাছে আমাদের কোনো প্রত্যাশা নেই।
২৪-এর রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর আমরা ভেবেছিলাম হত্যা, দুর্নীতি ও নৈরাজ্যের অবসান ঘটবে; কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আরও বেড়ে গেছে—যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মেধা, যোগ্যতা ও নৈতিকতার শক্তিতে আমাদের আপসহীন লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।”