শনিবার (৪ অক্টোবর) স্থানীয় সময় এই হামলা চালানো হয়। হামলার পর একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে আগুন ধরে যায়। এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে ‘বর্বরোচিত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। স্থানীয় প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭১ বছর বয়সি এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পুনর্গঠনমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা জানিয়েছেন, প্রথমে একটি লোকাল ট্রেনকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়, এরপর কিয়েভগামী ট্রেনকে আঘাত করে দ্বিতীয় ড্রোন। দ্বিতীয় হামলার সময় উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছিল।

তিনি একে রাশিয়ার ‘ডাবল ট্যাপ’ কৌশল বলে বর্ণনা করেন, যেখানে প্রথম হামলার পর দ্বিতীয় হামলা হয় উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর।

ইউক্রেনীয় রেলওয়ের প্রধান ওলেক্সান্দ্র পার্তসভস্কি বলেন, ‘এটি একটি জঘন্য হামলা। আমাদের ফ্রন্টলাইন কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।’ স্থানীয় গভর্নর ওলেহ হ্রিহোরভ জানান, হামলার পর শোস্তকা ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। যুদ্ধের আগে শহরটির জনসংখ্যা ছিল ৭০ হাজারেরও বেশি।

রাশিয়ার টার্গেটে ইউক্রেনের রেল ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো

গত দুই মাস ধরে ইউক্রেনের রেল নেটওয়ার্কে প্রায় প্রতিদিন হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। একইসঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে ক্রেমলিন। ইউক্রেনীয় জ্বালানি কোম্পানি জানায়, শুক্রবারের হামলায় সিএনজির সুবিধা নষ্ট হয়ে ৫০ হাজারের বেশি পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস অবকাঠামোর ওপর সবচেয়ে বড় আক্রমণ।

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো রাশিয়ার এই হামলাকে ‘সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করার কৌশল’ আখ্যা দেন। তবে মস্কোর দাবি, এসব স্থাপনা ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তা করছে।

ইউক্রেনীয় সেনারা জানায়, শুক্রবার রাতে রাশিয়া ১০৯টি ড্রোন ও তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার মধ্যে ৭৩টি ভূপাতিত বা পথচ্যুত করা হয়।

রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের পাল্টা হামলা

ইউক্রেনীয় সেনারা দাবি করেছে, শনিবার ভোরে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের কাছে কিরিশি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালানো হয়। শোধনাগারটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ, দৈনিক ৩ লাখ ৫৫ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে রাতের আকাশে ড্রোন ও বিস্ফোরণের ঝলকানি দেখা গেছে।

ফরাসি সাংবাদিক নিহত

অন্যদিকে, পূর্ব ইউক্রেনের দুরুজকিভকায় শুক্রবার রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ফরাসি ফটোসাংবাদিক আনতোয়ান লালিকান (৩৭) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ইউক্রেনীয় ফটোগ্রাফার হ্রিহরি ইভানচেঙ্কো। লালিকানের ছবি ল্য মন্ড, ল্য ফিগারো, ডের স্পিগেল ও ডি জাইটসহ বহু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৪ সালে তিনি আরএসএফ ফটো সাংবাদিকতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন।

২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে লালিকান ১৪তম এবং ফ্রান্সের চতুর্থ নাগরিক।