
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন আমেরিকার স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল-ফ্রি পিএইচডি’র সুযোগ পাওয়ায় সংবর্ধনা দিয়েছেন তার বিভাগের বায়ো ইমেজিং রিসার্চ ল্যাব। তিনি আমেরিকার University of Houston এ ফুল ফ্রি স্কলারশিপে Fall-2025 সেশনে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন।
সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুর তিনটার দিকে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩০২ নং কক্ষে বায়ো ইমেজ রিসার্চ ল্যাবের পক্ষ থেকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এসময় বায়ো ইমেজিং রিসার্চ ল্যাবের সুপারভাইজার ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম এবং রিসার্চ ল্যাবটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধিত শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন বলেন, “আমি আমার পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারি- কৃতজ্ঞ ও আবেগাপ্লুত। ২০২২ সাল থেকেই রিসার্সের প্রতি মনোনিবেশ ছিল। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে বিভাগের শিক্ষক এবং আমার এডভাইজারের সহযোগিতায় এতদূর আসা। বিশেষ করে ইউজিসি ও আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে অনুদান পাওয়ায় গবেষণার পথ কিছুটা সহজ মনে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ১৩টা গবেষণা পেপার রয়েছে। আমি চাইব- বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার উন্মুক্ত রাখতে। ছাত্র জীবনে খরচ বহন করতে না পেরে অনেকে গবেষণা করার সুযোগ পায় না। এদিকে আবাসিক হলগুলোতে পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি হয়ে এবং বর্তমান হল কর্তৃপক্ষের অধীনে আরও গবেষণাবান্ধব হবে বলে আশাবাদী।”
এ বিষয়ে বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম বলেন, “বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বায়ো ইমেজিং রিসার্চ ল্যাবটি আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হয়। মারুফ সেকেন্ড ইয়ার থেকেই এই ল্যাবে কাজ করত।গতবছর ডিপার্টমেন্ট থেকে তিনজন এবং আমার ল্যাবের দুজন স্কলারশিপ পেয়েছিলো। এইবছরে শুধু মারুফ স্কলারশিপ পেয়েছে। স্কলারশিপ পেতে রিসার্চ পেপার দরকার হয় যেটা ল্যাব থেকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হয়।শুধু বায়োমেডিকেল বিভাগ নয়, চাইলে বিজ্ঞান অনুষদের সকল বিভাগ ল্যাবে রিসার্চ করে স্কলারশিপ পেতে পারে। এক্ষেত্রে আমরা সহযোগিতা করে থাকি। আমি মারুফের শুভকামনা জানাই যেন আগামী দিনে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ প্রতিষ্ঠিত হয়।”
উল্লেখ্য, এসময় বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পাঁচজন শিক্ষার্থী যাদের সম্প্রতি Q1 জার্নালে রিসার্চ পেপার প্রকাশিত হয়েছে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহফুজ আহমেদ, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মো: মাহিম, সাকিব আল হাসান, ইমামুল হোসেন এবং ফাহাদ রহমান।