
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের(বুটেক্স) ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সংস্কারকৃত ল্যাবের উদ্বোধন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। ল্যাবটি উদ্বোধন করেন বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড.জুলহাস উদ্দিন। ১৪ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১ টায় উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
ল্যাবের পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি ব্যবহারিক এবং গবেষণামূলক কাজের জন্য যুক্ত করা হয়েছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। ব্যবহারিক কার্যক্রমের জন্য নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে ট্রিটমেন্ট, ডায়িং, ফিনিশিং, টেস্টিং এবং মাইক্রোবিয়াল সেকশন। ল্যাবে যুক্তকৃত নতুন মেশিনের মধ্যে রয়েছে অটোমেটিক ল্যাব প্রিন্টিং টেবিল,স্ক্রিন স্ট্রেচিং মেশিন, অটোমেটিক ইউভি এক্সপোজার মেশিন,স্ক্রিন ফ্রেম ড্রাইং মেশিন,ওয়াটার পিউরিফিকেশন ইউনিট (গ্রেড-৩),ডিজিটাল টেক্সটাইল প্রিন্টিং মেশিন, গ্লিসারিন বাথ স্যাম্পল ডাইং মেশিন,ল্যাবরেটরি প্যাডার মেশিন,ভার্টিকেল ফ্ল্যামাবিলিটি টেস্টার, প্রিসিশন অক্সিজেন টেস্টার, ফেব্রিক স্টিফনেস টেস্টার, হাইড্রোলিক জিএসএম কাটার, গ্রে স্কেল ও ব্লু স্কেল মেশন।
বুটেক্সের উপাচার্য ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, প্রথমত প্লানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের কর্মকর্তা এবং ওয়েট প্রসেস বিভাগের সকল শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানাই যারা এই কাজটি সম্পন্ন করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। আমি বলবো এই সংস্কার ওয়েট প্রসেস বিভাগের পুনর্জন্ম, কারণ ৭০ বছর আগে এই ল্যাবটা তৈরি করা হয়েছিলো যা ২০২৫ এ এসে সংস্কার করা হলো। এই ল্যাবটি ওয়েট প্রসেস বিভাগ দ্বারা পরিচালিত হলেও এটির সুযোগ-সুবিধা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের জন্য প্রযোজ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার কাজগুলো এখানে সম্পন্ন করতে পারবেন। এই ল্যাবের আরও ৫০ কোটি টাকার মেশিন বসানো হবে, পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ল্যাবের সংস্কারের কাজ পর্যায়ক্রমে শুরু করা হবে। আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এখন হাতে কলমে শেখার সুযোগ পাবে, যা আগে ছিল না। দীর্ঘ ৪-৫ মাস ধরে এই সংস্কারকাজে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করেছি। আশা করছি, এর সুফল শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ভোগ করবে।
প্লানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ মামুন কবির বলেন, বুটেক্সের ওয়েট প্রসেস ল্যাব দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পেয়েছে আধুনিকীকরণের ছোঁয়া। পুরোনো অকেজো মেশিন অপসারণ করে স্থাপন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের সর্বাধুনিক প্রি-ট্রিটমেন্ট, ডায়িং, প্রিন্টিং, ফিনিশিং ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল মেশিন, যা শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ করে দেবে। নতুন যন্ত্রপাতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিল্পপ্রযুক্তির সাথে সরাসরি পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি, ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহৃত আধুনিক মেশিনে কাজ করে বাস্তব শিল্প অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। হালনাগাদ পাঠ্যক্রমের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই ল্যাবে শিক্ষার্থীরা তত্ত্ব ও প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারবে।
এছাড়া উন্নত সরঞ্জামের ব্যবহারে নতুন টেক্সটাইল প্রসেস, রঙের গুণগত মান, ফিনিশিং টেকনিক ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার সুযোগও তৈরি হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় বাড়তি সুবিধা মিলবে। নিরাপদ ও উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ল্যাবে নতুন অবকাঠামো, উন্নত বায়ুচলাচল ব্যবস্থা ও সুরক্ষা সরঞ্জাম যুক্ত করা হয়েছে। ল্যাবে মোট ২০টি ফ্যান স্থাপন করা হয়েছে, যা সব জোনে কার্যকর বায়ুপ্রবাহ নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি প্রতিটি জোনে এয়ার কন্ডিশনার বসানোর কাজ চলছে, যাতে শিক্ষার্থীরা আরামদায়ক ও নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় কাজ করতে পারে। এর ফলে উচ্চ তাপমাত্রা বা আর্দ্রতার কারণে ব্যবহারিক কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না, বরং পরীক্ষামূলক ও গবেষণামূলক কার্যক্রমে স্থায়িত্ব ও নির্ভুলতা বৃদ্ধি পাবে। বুটেক্সের এই আধুনিকীকরণ উদ্যোগ ওয়েট প্রসেস ল্যাব দিয়ে শুরু হলেও, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, এটি কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—শিগগিরই অন্যান্য ল্যাব ও গবেষণা কেন্দ্রেও আধুনিকীকরণের কার্যক্রম শুরু হবে।
সহকারী টেকনিক্যাল অফিসার মোঃবাবুল আখতার বলেন, ল্যাবের শেডের আকার অপরিবর্তিত রেখে পুরনো ও অকেজো মেশিন অপসারণ করে সেখানে আধুনিক ও উন্নতমানের নতুন মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু সিভিল ওয়ার্ক, সুইচ ও বোর্ডসহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক্যাল ফাংশন মেরামত ও হালনাগাদ করা হয়েছে। শিক্ষক এবং কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া আগে ল্যাব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় ময়লা জমে থাকত, কিন্তু এখন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরনো অকেজো মেশিন অপসারণের ফলে ল্যাবের জায়গাও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ তৈরি করবে।
আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এখন হাতে কলমে শেখার সুযোগ পাবে, যা আগে ছিল না। দীর্ঘ ৪-৫ মাস ধরে এই সংস্কারকাজে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করেছি। আশা করছি, এর সুফল শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ভোগ করবে।
ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ল্যাব নতুন রূপে উদ্বোধন হলো। আমাদের শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ল্যাবরেটরি, যেখানে আমরা বইয়ের তত্ত্বকে বাস্তবে প্রয়োগ করি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আমরা ল্যাবে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সঠিক সরঞ্জামের অভাবে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। এই সংস্কার ও নবায়ন সত্যিই আমাদের জন্য এক আনন্দের সংবাদ। আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নত সুবিধা ও নতুন পরিবেশ আমাদেরকে আরও দক্ষভাবে শেখার সুযোগ করে দেবে। এর মাধ্যমে আমরা শুধু পাঠ্যক্রমের ব্যবহারিক কাজেই নয়, বরং নতুন নতুন গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সৃজনশীল কাজে অংশ নিতে পারবো।
এই উদ্যোগকে শিক্ষার্থীরা স্বাগত জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। তারা মনে করছে, আন্তর্জাতিক মানের যন্ত্রপাতি কেবল ব্যবহারিক দক্ষতাই বৃদ্ধি করবে না বরং উদ্ভাবন, গবেষণা ও পেশাগত আত্মবিশ্বাসও দৃঢ় করবে।