
০৩-০৯-২০২৫ স্থান: জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা।
সম্মানিত সকল অতিথিবৃন্দ, জাতীয় এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ- আপনাদের সবাইকে আজকের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও সালাম জানাচ্ছি। আপনাদের উপস্থিতির জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আজ আমরা উপস্থিত হয়েছি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে “১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ কিন্তু ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি হতে সুপারিশ বঞ্চিত ১৬,২১৩ জন প্রার্থীর ‘বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির’ মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান”। আমরা ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে সুপারিশ বঞ্চিত ১৮তম নিবন্ধনে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীগণ। বেসরকারি স্কুল ও কলেজের লক্ষাধিক পদে শিক্ষকের সকেট পূরণের লক্ষ্যে বিগত ০২/১১/২০২৩ তারিখে NTRCA বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। যেখানে ১৮,৬৫,৭১৯ জন আবেদনকারী থেকে প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় ৪.৭৯,৯১১ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়, সেখান থেকে লিখিত পরীক্ষায় ৮৩,৮৬৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয় এবং সর্বশেষ মৌখিক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ মেধার স্বাক্ষর রেখে ৬০,৫২১ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়। অর্থাৎ, আমরা যারা আজ এখানে উপস্থিত, তারা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্যকে শিক্ষাদান করার জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক যাচাইকৃত যোগ্য শিক্ষক। গত ১৯/০৮/২০২৫ তারিখে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় এবং ১ লক্ষের বেশি পদের বিপরীতে মাত্র ৪১,৬২৭জন প্রার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়। যেখানে আরো প্রায় ৬০ হাজারের অধিক পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৬,২১৩ জন প্রার্থীর নিয়োগ বঞ্চিত হয়। সর্বোচ্চ মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েও নিয়োগ না পাওয়ায় এই বিশাল সংখ্যক প্রার্থী এখন প্রচন্ড হতাশা, মানসিক চাপ সহ পারিবারিক ও সামাজিক নিগ্রহের শিকার। ইতিমধ্যে ঘোষণা হয়েছে ১৯তম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা পরিবর্তিত পদ্ধতিতে হবে, সেহেতু সনদের মেয়াদ থাকা শর্তে ১৮তম সকল নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীদের সুপারিশ নিশ্চিত করার পর ১৯তম সার্কুলার প্রদান করার জন্য NTRCA কর্তৃপক্ষকে সবিনয়ে অনুরোধ সহ জোর দাবি জানাচ্ছি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সাল পর্যন্ত পদের বিপরীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। উক্ত কারণে প্রভাষক পদে বিভিন্ন বিষয়ে অর্ধেকেরও বেশি প্রার্থী সুপারিশ বঞ্চিত হয়। এছাড়া স্কুল ও স্কুল পর্যায়-২ এ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী বাদ পড়ে। সেক্ষেত্রে NTRCA কর্তৃপক্ষ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সাল পর্যন্ত শূন্য পদ যুক্ত করে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রদান করে আমাদের সকলের সুপারিশ নিশ্চিত করলে আমরা চির কৃতজ্ঞ থাকবো। আপনাদের জ্ঞাতার্থে আরো একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই, ১৬,২১৩ প্রার্থীর ভিতর অনেক প্রার্থী আছেন স্কুল ও কলেজ উভয় পদেই সনদপ্রাপ্ত হয়েছেন, সেখান থেকে একটি পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও আমাদের নিয়োগ প্রত্যাশী প্রার্থী সংখ্যায় আরো অনেক কম হবে। ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়ার আগে NTRCA শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে ৩ বছরের অগ্রিম শূন্য পদের চাহিদা নিয়ে রেখেছে। এই বিরাট সংখ্যক শূন্য পদের বিপরীতে আমাদের নিয়োগ প্রদান করলেও অনেক শিক্ষক চাহিদা থেকে যাবে।
উল্লেখ্য যে, আমরা সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিকট থেকে নিশ্চিত হয়েছি যে সদ্য সুপারিশকৃত পদে অনেক প্রার্থী বিভিন্ন কারনে যোগদান করবেন না। তাই চলমান তীব্র শিক্ষক সংকট আরো তীব্রতর হবে। ফলে শিক্ষাব্যবস্থা হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়বে। তাই এই অযোগদানকৃত পদ গুলোতে শূন্য পদ যুক্ত করে দ্রুত বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি সহজেই প্রদান করা যায়। সেজন্য শিক্ষক সংকট নিরসন করতে আমরা এরুপ ব্যবস্থা নিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি। আপনারা হয়তো জানেন, সুদীর্ঘ ২ বছরেরও অধিক কাল চলমান পরীক্ষার প্রত্যেকটি ধাপে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ প্রতিটি প্রার্থীই অত্যন্ত যোগ্য ও মেধাবী। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও আমরা যোগ্য প্রার্থীরা এখনো নিয়োগ বঞ্চিত। তাই আজ আমরা আপনাদের মাধ্যমে এই ন্যায্য দাবিটি জাতির সামনে তুলে ধরতে চাই। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, শিক্ষক সংকট নিরসনে ২০২২ সালের ০৬ ফেব্রুয়ারী ১৫,১৬৩ জন প্রার্থীর চাহিদা সহ বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল। এবারো ৬০ হাজারের অধিক শূন্য পদের শিক্ষক সংকট নিরসনে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মাত্র ১৬,২১৩ জন প্রার্থীকে NTRCA কর্তৃপক্ষ- “বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির” মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান করবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। আমরা ইতিমধ্যেই নিম্নোক্ত দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেছি। ১. প্রধান উপদেষ্টা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ২. মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা। ৩. চেয়ারম্যান, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (NTRCA) ৪. মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা। ৫. শিক্ষা সচিব, শিক্ষা মন্ত্রাণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা। ৬. যুগ্মসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা। সম্মানিত সকল অতিথিবৃন্দ, জাতীয় এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ- আমরা কেউ কোন বিশেষ সুবিধা চাই না। আমরা শুধু চাই আমাদের ন্যায্য অধিকার নিয়োগ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা। শিক্ষক সমাজ জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাতা। তাই আমাদের দাবি শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি জাতির শিক্ষার মানোন্নয়নের সাথেও জড়িত। আপনাদের কলম ও ক্যামেরার মাধ্যমে আমাদের এই ন্যায্য দাবিটি দেশব্যাপী তুলে ধরলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব। আমরা আশা করি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত আমাদের সমস্যার সমাধান করবেন। সবশেষে, আপনাদের প্রতি আবারো আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ