
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাইকোর্ট ডাকসু নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেওয়ার পর মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে তা স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এই আদেশ স্থগিতে হাইকোর্টে আবেদন করেন আইনজীবী শিশির মনির। বিষয়টি ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠে, তিনি কেন এই মামলায় যুক্ত হলেন এবং আদৌ তিনি কোনো প্রার্থীর পক্ষে নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে লড়েছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ জানান, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল আইনজীবীদের তালিকায় শিশির মনির আগে থেকেই রয়েছেন। ৫ আগস্টের পর সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদিত ১২ জন প্যানেল আইনজীবীর মধ্যেই তিনি একজন। এটি নতুন কিছু নয়।’
প্রক্টর আরও বলেন, ‘হাইকোর্টে যে রিট করা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে আপিল করেন চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহমদ। এই আপিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন শিশির মনির। তিনি কোনো প্রার্থীর—বিশেষ করে এস এম ফরহাদের—পক্ষে ছিলেন না।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, শিশির মনিরের এই দায়িত্ব ছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত প্যানেল আইনজীবী হিসেবে, সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যেই।
উল্লেখ্য, ডাকসু নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেছিলেন বামজোট মনোনীত প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী বিএম ফাহমিদা আলম।
এই রিট আবেদনের শুনানি মঙ্গলবার বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ দেন। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করবেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া।
পরে আদালতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আপিল করা হয়। ওই আপিলের শুনানিতে ঢাবি প্রশাসনের আইনজীবী ছিলেন মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। এর ফলে ডাকসু নির্বাচন আয়োজনে কোনো বাধা নেই।