1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
বুটেক্সে আউটসোর্সিং এ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে অনিয়ম, বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা - dailyainerkantho
১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| বর্ষাকাল| শনিবার| সন্ধ্যা ৭:১১|
শিরোনামঃ
জুলাই অভ্যুত্থানের একমাত্র মাস্টারমাইন্ড মহান আল্লাহ,ইনসাফ গার্ডের সভাপতি খান রায়হান রাজশাহীতে সাংবাদিক সম্রাটকে কুপিয়ে জখম, অবস্থা আশঙ্কাজনক সান্তাহারে ভেজাল আইসক্রিম কারখানায় অভিযানে ১০ লক্ষ টাকার মালামাল জব্দ, গোডাউন সিলগালা এফআইআরে নাম না থাকলেও নুসরাত হত্যা মামলায় সাজা খাটছেন অর্ধ যুগের বেশি. হাইকোর্টে ন্যায়বিচার চান ভক্তভোগীর স্বজনরা. হরিণাকুণ্ডু উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত: স্কাউটিং কে গতিশীল করতে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো- গাজালা পারভীন রুহী বগুড়ায় ডিবি পুলিশের অভিযানে ২ হাজার ট্যাপেন্টারডল ট্যাবলেট উদ্ধার, তিনজন গ্রেপ্তার!! আদমদীঘি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নারী সহ গ্রেপ্তার-৮!! নেত্রকোণা ইউনিয়ন পর্যায়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মজিবুর রহমান ধর্মপাশা জয়শ্রী ইউনিয়নে আলোচনার তুঙ্গে কারানির্যাতিত যুবদল নেতা আবুল বাশার

বুটেক্সে আউটসোর্সিং এ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে অনিয়ম, বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা

মো: তাওকীর তাজাম্মুল,বুটেক্স প্রতিনিধি
  • Update Time : বুধবার, আগস্ট ১৩, ২০২৫,
  • 110 Time View

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) আউটসোর্সিং এ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বেতন দেওয়া নিয়ে গড়িমসির অভিযোগ উঠছে। বেতন পরিশোধে ধীরগতির কারণে আউটসোর্সিং এর কর্মচারীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বর্তমানে আল মোমেন আউটসোর্সিং লি. এবং সামাইরা জবস ব্রিজ লি. এই দুইটি এজেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটসোর্সিং এর কাজ করে। আল মোমেনের হয়ে কাজ করেন ৩৫ জন এবং সামাইরার হয়ে কাজ করেন ১৪ জন কর্মচারী। সামাইরার কর্মচারীরা যথাসময়ে বেতন পেলেও আল মোমেনের কর্মচারীদের সঠিক সময়ে বেতন না পাওয়ার অভিযোগ উঠছে। তবে এই মাসে এখনও পর্যন্ত দুই এজেন্সির কেউই কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করেনি।

আল মোমেনের কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, মাস শেষে নির্ধারিত সময়ে বেতন না পাওয়া এখন নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাস পেরিয়ে অপর মাসের অর্ধেক চলে গেলেও আগের মাসের বেতন মেলে না। বর্তমান মূল্যস্ফীতির এই সময়ে বিলম্ব বেতন কেবল প্রশাসনিক সমস্যা নয়, এটি এক ধরনের মানবিক সংকট। মাসের শুরুতে বেতন না পেলে ক্ষুদ্র কর্মচারীদের পরিবার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়ে, ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে ধার-দেনাতে জড়িয়ে পড়ছেন।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ মো. মামুন কবীর বলেন, আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তারক্ষীদের দৈনিক উপস্থিতি সাইন সংগ্রহ করা ডকুমেন্টস আমাদের কাছে আসে। আমরা যাচাই-বাছাই শেষে ভিসি স্যারের অনুমোদন নিয়ে অ্যাকাউন্টসে পাঠাই। এরপর অডিট সঠিকতা যাচাই করে এবং ডিডি ফাইন্যান্স অর্থ ছাড়েন। আমাদের দপ্তর তিন দিনের মধ্যে কাজ শেষ করে ফাইন্যান্সে পাঠিয়ে দেয়। এরপর দেরি হয় কি না, তা জানা নেই। তবে ভবিষ্যতে নতুন কোম্পানির সাথে চুক্তিতে স্পষ্ট নীতিমালা করা হবে, যাতে তারা নিজেরাই কর্মচারীদের যথাসময়ে বেতন প্রদান করে।

সিকিউরিটি ইন্সপেক্টর জুবায়ের হোসেন বলেন, আমি সিকিউরিটি সেকশনে নতুন যোগদান করেছি। এই মাসে আমরা ৩-৪ তারিখের মধ্যে কাগজপত্র অন্যান্য বিভাগে পাঠিয়েছি। এখন কোথায়, কী কারণে বিলম্ব হয় তা সঠিকভাবে বলতে পারছি না। যেহেতু এটি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, এজেন্সি মালিকদের গাফিলতি থাকতে পারে এবং উপস্থিতি যাচাইসহ নানা কারণে সময় লাগতে পারে। বিষয়গুলো জেনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি, যাতে প্রতি মাসের ১-৭ তারিখের মধ্যে বেতন প্রদান সম্পন্ন হয়।

পূর্ববর্তী সিকিউরিটি ইন্সপেক্টর মো. বাবুল আক্তার বলেন, আউটসোর্সিং কর্মীরা ক্যাম্পাস, হল ও অন্যান্য শাখায় কাজ করেন। শাখাভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্তরা উপস্থিতি যাচাই শেষে মাসের ৩-৪ তারিখে ডকুমেন্টস পাঠান। আমরা সর্বোচ্চ ৩ দিনের মধ্যে বিল প্রক্রিয়া করি। তবে অনেক সময় ডকুমেন্টস অফিস বন্ধের আগে বা বৃহস্পতিবার এলে প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়। বিল সম্পন্নের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর, রেজিস্টার অফিস, অডিট বিভাগ, অ্যাকাউন্টস সেকশনসহ একাধিক বিভাগে যেতে হয়, ফলে বেতন মাসের ১৫-২০ তারিখে পৌঁছায়।

ফাইন্যান্স ও অ্যাকাউন্টস সেকশনের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আউটসোর্সিং বিলের ডকুমেন্টস বিভিন্ন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরসহ সিকিউরিটি সেকশনে আসে। যাচাই শেষে রেজিস্টার, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরসহ অন্যান্য বিভাগে পাঠানো হয়। এসব প্রক্রিয়া শেষে ৮-৯ তারিখে ডকুমেন্টস আমাদের কাছে আসে। এরপর যাচাই, অডিট ও উপাচার্যের অনুমোদন নিয়ে ৩-৪ দিনে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ফলে বেতন মাসের ১৫-১৬ তারিখে চূড়ান্ত হয়। আমরা কোম্পানিকে বিল প্রদান করি, কর্মীদের ১ তারিখের মধ্যে বেতন দেওয়া তাদের দায়িত্ব। মাস শেষে উপস্থিতিসহ সবকিছু যাচাই-বাছাইয়ের কারণে সময় লাগা স্বাভাবিক। এখানে আউটসোর্সিং কোম্পানির দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এই জটিলতা দূর হচ্ছে না।

আল মোমেনের কর্মচারী নিরাপত্তারক্ষী মো. রুবেল রানা বলেন, আজ ১২ তারিখ, কিন্তু এখনও বেতন পাইনি। গত মাসে ১৬ তারিখে বেতন পেয়েছিলাম, যা আগে কখনো এত দ্রুত পাইনি। সাধারণত ২০-২২ তারিখে বেতন পাওয়া যায়। ঈদের আগে (২৮ তারিখে) ক্যাম্পাস বন্ধ হলেও বেতন পাইনি, অন্য কোম্পানিগুলো কর্মীদের টাকা দিয়েছে কিন্তু আল মোমেন দেয়নি। মোমেনকে যদি বলি তাহলে বলে, ভার্সিটি থেকে যদি টাকা না দেয় তাহলে আমি টাকা পাবো কই?  তারা সবসময় ভার্সিটি থেকে টাকা পাওয়ার পরই বেতন দেয়, ফলে দেরি হয়। এতে বাসা ভাড়া ও খাওয়ার খরচ মেটাতে প্রায় প্রতি মাসেই মানুষের কাছে ধার করতে হয়, কারণ ঢাকায় ১০ তারিখের মধ্যে ভাড়া দেওয়া বাধ্যতামূলক। এখন ধার-দেনা করে জীবনযাপন করা নিয়মে পরিণত হয়েছে।

তাছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী বলেন, গত দুই ঈদে কোনোটাতেই বেতন পাই নি। তাই অর্থের অভাবে ধার করে ঈদ করতে হয়েছে। আর আমাদের পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে তার অপারেশন করার জন্য বেতনের টাকা পেতেই আপনাদের পা ধরে থাকা লাগে। আমাদের জীবনের কি কোন মূল্যই নেই? যারা এই অনিয়য়মের সাথে জড়িত তাদের জন্য যে মানুষের প্রাণ যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে তারা কি এটা জানে না? আমরা গরিব বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও কি আমাদের কষ্ট বুঝেন না? তাহলে কেন এত অনিয়ম আর অবহেলা?

এ বিষয়ে জানতে আল মোমেন এজেন্সিকে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।

 

বুটেক্সের কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকা সচল রাখে নীরবে। তাদের ন্যায্য পাওনা বেতন যদি সময়মতো না আসে, তাহলে শুধু তারা নয়, পুরো প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সমস্যার সমাধান করা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 dailyainerkantho কারিগরি সহযোগিতায়ঃ BDITWork.com