1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
কৃত্তিম বৃষ্টি যেভাবে নামানো হয় - dailyainerkantho
৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| বুধবার| রাত ৩:৫৩|

কৃত্তিম বৃষ্টি যেভাবে নামানো হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : শনিবার, জুলাই ৫, ২০২৫,
  • 181 Time View

আর্টিফিশিয়াল বৃষ্টি বা কৃত্রিম বৃষ্টি হলো এক ধরনের বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি যার মাধ্যমে মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে বৃষ্টি নামাতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় বৃষ্টি তৈরি হয় যখন আকাশে জলীয় বাষ্প জমে মেঘ তৈরি করে এবং মেঘের ক্ষুদ্র জলকণাগুলো একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে বড় ফোঁটায় রূপান্তরিত হয়। একসময় এই বড় ফোঁটা মাটিতে পড়ে বৃষ্টির আকারে। কিন্তু সব সময় মেঘের মধ্যে এত জলীয় বাষ্প বা উপযুক্ত অবস্থা থাকে না যার ফলে সহজে বৃষ্টি নামে না। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম বৃষ্টি নামানোর পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যাকে বলা হয় ক্লাউড সিডিং।

ক্লাউড সিডিংয়ের মাধ্যমে মেঘের ভেতরে কিছু রাসায়নিক পদার্থ ছড়ানো হয়। এর জন্য সাধারণত সিলভার আয়োডাইড, সোডিয়াম ক্লোরাইড (লবণ), শুষ্ক বরফ (কার্বন ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপ) ব্যবহার করা হয়। বিমান, ড্রোন বা বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে এই পদার্থগুলো মেঘের মধ্যে পাঠানো হয়। যখন এই পদার্থগুলো মেঘের ভেতর ছড়ানো হয়, তখন মেঘের ক্ষুদ্র জলকণাগুলো এই পদার্থের চারপাশে জমা হতে শুরু করে। একে বলে কনডেনসেশন নিউক্লি। অর্থাৎ ছোট ছোট জলীয় কণাগুলো সহজে জোট বাঁধার জন্য কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে এই রাসায়নিক পদার্থ। এতে জলকণাগুলো বড় ফোঁটায় পরিণত হয় এবং ওজনের কারণে মাটিতে বৃষ্টির আকারে নেমে আসে।

কৃত্রিম বৃষ্টি সাধারণত শুষ্ক ও খরাপ্রবণ অঞ্চলে পানি সরবরাহ বাড়াতে, কৃষির জন্য মাটি আর্দ্র করতে, জলাধার বা রিজার্ভার পূর্ণ করতে এবং বড় দাবানল নেভাতে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অনেক দেশেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। তবে এই প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। সব ধরনের মেঘে এটা কাজ করে না মেঘে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বা উপযুক্ত তাপমাত্রা থাকতে হয়। তাছাড়া রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের কারণে পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

তবুও সঠিক বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ মেনে চললে কৃত্রিম বৃষ্টি একটি গুরুত্বপূর্ণ জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা কৌশল হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন ও খরার প্রকোপ বৃদ্ধির এই যুগে এটি একটি সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদন, পানি সরবরাহ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এভাবে মানুষ প্রকৃতির ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ এনে নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করছে বিজ্ঞানের কল্যাণে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 dailyainerkantho কারিগরি সহযোগিতায়ঃ BDITWork.com